
ইতিহাসের ধুলোমাখা পাতা আজও সাক্ষী রাজা-বাদশাহদের চতুরঙ্গ খেলার আভিজাত্য ও রণকৌশলের। সেই ঐতিহ্যই যেন নতুনভাবে ফিরে এল অরণ্যশহর ঝাড়গ্রামে। ঝাড়গ্রাম ডিস্ট্রিক্ট চেস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত বার্ষিক দাবা প্রতিযোগিতা এ বছর পা দিল চতুর্থ বর্ষে।
কলেজ মোড় সংলগ্ন ওয়েস্ট এন্ড হাই স্কুলের আইসিএসই ভবনের শান্ত পরিবেশে সাজানো হয়েছিল দাবার বোর্ড। চারপাশে নিস্তব্ধতা, আর সেই নিস্তব্ধতার মধ্যেই চলেছে বুদ্ধির লড়াই—এক অদৃশ্য যুদ্ধের প্রস্তুতি।
এদিন মোট ৫৭ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। অনূর্ধ্ব ৭ থেকে শুরু করে অনূর্ধ্ব ১৯ এবং ওপেন বিভাগ—মোট ৮টি বয়সভিত্তিক ক্যাটাগরিতে ভাগ হয়ে প্রতিযোগীরা নামেন সাদা-কালো ছকের লড়াইয়ে। প্রত্যেকেই নিজের সেরা চালটি দেওয়ার লক্ষ্যে মনোনিবেশ করেন।
আরও পড়ুন :: ২০-২৫ বছরের পরিকল্পনা দরকার, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে দেবের বার্তা
৬টি রাউন্ডে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় প্রতিটি চাল ছিল পরিকল্পিত ও সূক্ষ্ম। কখনও বোর্ডে তৈরি হয়েছে চেকমেটের চাপ, আবার কখনও কৌশলী ক্যাসলিংয়ের মাধ্যমে সুরক্ষিত হয়েছে রাজা। প্রতিটি রাউন্ডে বদলেছে জয়-পরাজয়ের সমীকরণ, বেড়েছে উত্তেজনা।
শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ীরা নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করে তুলে নেন ট্রফি ও আকর্ষণীয় নগদ পুরস্কার। আয়োজকদের মতে, এই প্রতিযোগিতা শুধু একটি খেলা নয়, বরং নতুন প্রজন্মের মধ্যে যুক্তিবোধ ও কৌশলগত চিন্তার বিকাশ ঘটানোর এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
অরণ্যশহরের এই দাবার আসর আবারও প্রমাণ করল—দাবার বোর্ডে রাজা হওয়া শুধুই ভাগ্যের খেলা নয়, বরং নিখুঁত বুদ্ধি ও ধৈর্যের জয়।



