ঝাড়গ্রাম

বাড়ি ফেরার আগে ফুলের মালা, ঝাড়গ্রামকে কুর্নিশ জানালেন ছয় যুবক

বাড়ি ফেরার আগে ফুলের মালা, ঝাড়গ্রামকে কুর্নিশ জানালেন ছয় যুবক - West Bengal News 24

স্বপ্নীল মজুমদার, ঝাড়গ্রাম: গাড়িতে ওঠার সময় কেঁদেই ফেললেন রঞ্জন দেবনাথ, অভিজিৎ দেবনাথেরা। সোমবার ঝাড়গ্রাম শহরের তরুণ সমাজসেবী ও বাম গণ আন্দোলনের কর্মী প্রতীক মৈত্রের গাড়িতে বাড়ির উদ্দেশ্যে ফিরে গেলেন নদীয়া ও পূর্ব বর্ধমানের ছয়জন যুবক। ছত্তিশগড়ের ভিলাইয়ের একটি অনলাইন ক্রয় বিক্রয় সংস্থার সেলস কর্মী ওই যুবকেরা লকডাউনে সেখানে আটকে পড়েছিলেন।

দিন কয়েক আগে তাঁরা কিছুটা পথ হেঁটে ও লরিতে করে গত বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রামের লোধাশুলিতে এসে পৌঁছন। রাতটা রাস্তায় কাটিয়ে শুক্রবার পুলিশের উদ্যোগে তাঁদের ঝাড়গ্রাম জেলা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের জন্য পাঠানো হয়। রাতে পুলিশের কাছে সাহায্য চেয়েও প্রত্যাখ্যাত হন ওই যুবকেরা। উদভ্রান্তের মত রাস্তায় ঘোরার সময়ে প্রতীক ও তাঁর বন্ধুদের নজরে পড়েন তাঁরা। এরপর প্রতীকের উদ্যোগে ও সিপিআই দলের শ্রমিক সংগঠন এআইটিইউসি-র জেলা সম্পাদক গুরুপদ মণ্ডলের সহযোগিতায় শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়ে ওই ছয় যুবকের থাকার ব্যবস্থা করা হয়। বাম শ্রমিক সংগঠনটির উদ্যোগে ওই যুবকদের তিনদিন খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়।

ঝাড়গ্রামের মহকুমাশাসক সুবর্ণ রায়ের কাছে বাড়ি ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন ওই যুবকেরা। অনুমতি মেলার পরে প্রতীকের গাড়িতে তাঁদের ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়। ওই যুবকদের গাড়ির তেলের খরচ বহন করেন ঝাড়গ্রামের কৃতী ভূমিকন্যা বর্তমানে তমলুকের স্কুল শিক্ষিকা বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী শুক্তি বন্দ্যোপাধ্যায়। ঝাড়গ্রাম শহরের সমাজসেবী মিতুল পাণ্ডার মত আরও কিছু সহৃদয় মানুষ ওই যুবকদের ফেরা ও হাত খরচের জন্য অর্থ সাহায্য করেন। ফেরার আগে সিপিআই নেতা অসীম রায় মালা পরিয়ে ছয় যুবককে বিদায় জানান। যাওয়ার আগে ওই যুবকেরা বলে যান, “ঝাড়গ্রামের এই মানুষগুলির কাছে আজীবন ঋণী ও কৃতজ্ঞ থাকব।” বিপদের দিনে এমন সাহায্য পেয়ে আপ্লুত ওই ছয় যুবক বলেন, “ঝাড়গ্রামকে কোনোদিন ভুলব না।”

আরও পড়ুন ::

Back to top button