পুজোর আগেই বিষাদের ছায়া, লালগড়ের বামাল গ্রামে দুর্গামণ্ডপে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই বালক-বালিকার মৃত্যু

স্বপ্নীল মজুমদার, ঝাড়গ্রাম: গ্রামের দুর্গামণ্ডপের কোলাপসিবল গেট ছুঁয়ে নির্মীয়মান প্রতিমা দেখতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হল দুই বালক-বালিকার। শনিবার সন্ধ্যায় এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ লালগড়ের বামাল গ্রাম। মৃত সৌরভ পাত্র (১০) ও কাজল সিং (১১) দু’জনেরই বাড়ি বামাল গ্রামে।
বামাল গ্রামের স্থায়ী দুর্গা মণ্ডপে এবার পুজোর ৭৪ তম বর্ষ। সেখানেই তৈরি হচ্ছে প্রতিমা। রাতেও প্রতিমা তৈরি করেন মৃৎশিল্পী। তাই পুজো কমিটির এক সদস্যের বাড়ি থেকে বিদ্যুৎবাহী তার টেনে অস্থায়ী ভাবে মণ্ডপ আলোকিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শনিবার বৃষ্টির জন্য আসেননি মৃৎশিল্পী।
বৃষ্টি থামায় সন্ধ্যায় দুর্গা মণ্ডপের প্রাঙ্গণে ‘চোর-পুলিশ’ খেলছিল সৌরভ ও কাজল সহ গ্রামের কয়েকজন খুদে। সৌরভ লালগড় রামকৃষ্ণ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। আর কাজল বামাল মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত।
আরও পড়ুন : পাঁশকুড়ার বড়মা কোভিড হাসপাতালে ব্যাপক ভাঙচুর
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্ধ্যে সোয়া সাতটা নাগাদ খেলা শেষে সৌরভ ঠাকুর দেখার জন্য মণ্ডপের কোলাপসিবল গেট ধরে প্রতিমা দেখতে গিয়েই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। সৌরভকে টানতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় কাজলও। সৌরভ-কাজলের খেলার সঙ্গী সায়ন সর্দার, মামনি দোলাই দৌড় গিয়ে সবাইকে খবর দেয়।

হইচই শুনে ছুটে আসেন গ্রামের যুবক বাদল দাস। বাঁশ দিয়ে আলোটি ভেঙে দিয়ে বিদ্যুতের তারটি সরিয়ে দেন তিনি। সৌরভ ও কাজলকে উদ্ধার করে লালগড় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দু’জনকেই মৃত ঘোষণা করেন। পুজোর মুখে এমন ঘটনায় বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছেন এলাকাবাসী।
দু’টি পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সৌরভের বাবা লাল্টু পাত্র পেশায় প্রান্তিক চাষি। কাজলের বাবা গণেশ সিং দিনমজুরি করেন। পুজোর আগেই বামাল গ্রামে বিষাদের ছায়া। অনিশ্চিত হয়ে গিয়েছে ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন পূজটি।



