ঝাড়গ্রাম

‘শিক্ষারত্ন’ সম্মান পাচ্ছেন ঝাড়গ্রাম জেলার তিন শিক্ষাব্রতী

স্বপ্নীল মজুমদার

‘শিক্ষারত্ন’ সম্মান পাচ্ছেন ঝাড়গ্রাম জেলার তিন শিক্ষাব্রতী - West Bengal News 24

ঝাড়গ্রাম: অধ্যক্ষ হিসেবে তাঁর সুদক্ষ পরিচালনায় কন্যাশ্রী প্রকল্প সফলভাবে রূপায়ণের জন্য ঝাড়গ্রাম জেলায় এই নিয়ে পর পর তিন বার প্রথম পুরস্কার পেয়েছে ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজ। তিনি ড. দেবনারায়ণ রায়। ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজের অধ্যক্ষ।

ছাত্রীদের ‘মনের ঠিকানা’র হদিশ রাখেন রাণী বিনোদমঞ্জরী রাষ্ট্রীয় বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষিকা ড. পুষ্পলতা বারুই মুখোপাধ্যায়।

ভর্তি হতে ইচ্ছুক কোনও পড়ুয়াকেই ফেরান না ঝাড়গ্রাম নেতাজি আদর্শ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক অপর্ণেশ মিশ্র।

এই তিন কৃতী শিক্ষাব্রতী এবছর ঝাড়গ্রাম জেলা থেকে শিক্ষারত্ন সম্মান পাচ্ছেন। যোগ্য তিন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব শিক্ষারত্ন সম্মানের জন্য বিবেচিত হয়েছেন বলে মানছেন জেলার শিক্ষামহল।

আরও পড়ুন : চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা! নিশীথ প্রামাণিকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ বিজেপি নেতারই

দেবনারায়ণ রায় প্রাণিবিদ্যার এমএসসি (গোল্ড মেডেলিস্ট) ও পিএইচডি। ১৯৯৯ সালে ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজের প্রাণিবিদ্যার অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ২০১১ সালে কোচবিহারের আচার্য ব্রজেন্দ্রনাথ শীল কলেজের অধ্যাপক ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে বদলি হন। ২০১৫ সালে গোয়ালতোড় কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্বে এসে তাঁর তত্ত্বাবধানে ওই কলেজটি ‘ন্যাক’ উত্তীর্ণ হয়।

২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ঝাড়গ্রাম সরকারি রাজ কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি অধ্যক্ষের দায়িত্বে আসার পরে ঝাড়গ্রামের এই সরকারি কলেজে পরিকাঠামোগত নানা উন্নয়ন হয়েছে। যেমন, ক্যাসলেশ ক্যাম্পাস, দূষণ নিয়ন্ত্রণের পরিমাপ যন্ত্র বসানো, রেন ওয়াটার হারভেস্টিং, কিচেন গার্ডেনের মতো নানা প্রকল্প রূপায়িত হয়েছে। গত বছর কলেজের রসায়ন বিভাগের সহযোগিতায় প্রায় এক হাজার লিটার স্যানিটাইজ়ার তৈরি করে জেলা প্রশাসনকে দিয়েছিলেন দেবনারায়ণবাবু। ২০১৯ সাল থেকে এ বছর পর্যন্ত পর পর তিন বছর জেলায় কন্যাশ্রী প্রকল্প রূপায়ণে প্রথম স্থানে রয়েছে রাজ কলেজ।

রাণী বিনোদ মঞ্জরী রাষ্ট্রীয় বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষিকা পুষ্পলতাদেবী উদ্ভিদবিদ্যায় স্নাতকোত্তর ও এডুকেশন বিষয়ে গবেষণা করে পিএইচডি করেছেন।১৯৯৯ সালে রা‌নি বিনোদমঞ্জরীর সহশিক্ষিকা হিসেবে যোগ দেন। পরে ২০১৫ সালে পিএসসি-র মাধ্যমে ওই সরকারি স্কুলেই প্রধা‌নশিক্ষিকা হন। তাঁর পরিচালনায় স্কুলটি রাজ্য স্তরের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় একাধিকবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। স্কুলের বিজ্ঞান দিবসে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। স্কুলে প্রতি বছর বার্ষিক প্রতিযোগিতাও হয়।

আরও পড়ুন : ওভারলোডিং ঠেকাতে আরও তত্‍পর নবান্ন, জেলাশাসকদের কড়া বার্তা মুখ্যসচিবের

প্রত্যন্ত গ্রামের ছাত্রীদের মায়েরা বার্ষিক উৎসবে এসে শোনান কিভাবে প্রতিকুলতা জয় করে পড়াশোনা করছে কন্যাশ্রীরা। নিয়মিত ছাত্রীদের ক্যারাটে প্রশিক্ষণ, কেরিয়ার কাউন্সিলিং করা হয়। তাঁর ভাবনায় চালু হয়েছে ‘মনের ঠিকানা’। ছাত্রীরা যে সব সমস্যার কথা কাউকে বলতে পারে না, সে বিষয়ে লিখে মনের ঠিকানা বাক্সে জমা দিয়ে যায়। সেগুলি পড়ে সমস্যার সমাধান করা হয়। করোনা আবহে অবশ্য এখন অনলাইনে কিংবা ফোনে প্রধানশিক্ষিকার কাছে সমস্যার কথা জানায় ছাত্রীরা।

নেতাজি আদর্শ বিদ্যালয়ে রয়েছে বাংলা ও হিন্দি মাধ্যম। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিদ্যার স্নাতকোত্তর অপর্ণেশ মিশ্র ১৯৯৩ সালের জুলাইয়ে ওই স্কুলে সহশিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে ২০০৯ সেপ্টেম্বর থেকে ওই স্কুলেরই প্রধানশিক্ষকের দায়িত্বে আছেন। সহশিক্ষামূলক এই স্কুলে কোনও পড়ুয়াকে ফেরানো হয় না। পড়ুয়াদের বেশিরভাগ সামাজিক ভাবে পিছিয়ে পড়া দরিদ্র পরিবারের। কিন্তু তারাই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে ভাল ফল করে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button