‘লাভ থাকলেই রাশিয়ার তেল’, ওএনজিসির স্পষ্ট বার্তা দিল্লির কূটনীতিতে নতুন মাত্রা
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

বুধবার থেকে ভারতের উপর নেমেছে মার্কিন ৫০ শতাংশ শুল্কের বোঝা। কিন্তু তাতেও দিল্লি দমে যাচ্ছে না, বরং কূটনৈতিকভাবে পরিষ্কার করে দিচ্ছে নিজের অবস্থান। শুক্রবার রাষ্ট্রায়ত্ত অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস কর্পোরেশন (ওএনজিসি) ঘোষণা করেছে, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনওরকম বাধা নেই। ফলে কেনাবেচা আগের মতোই চলবে। সংস্থার বার্তা, যতদিন রাশিয়া থেকে তেল নেওয়া অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক থাকবে, ততদিনই চলবে আমদানি।
ওই দিনই ওএনজিসির চেয়ারম্যান অরুণকুমার সিং সাংবাদিকদের সামনে জানান, “যত দিন পর্যন্ত বিষয়টি লাভজনক থাকবে, তত দিন পর্যন্ত আমরা প্রতিটি ফোঁটা (রাশিয়ার তেল) কিনে যাব।” তাঁর কথায়, এই মুহূর্তে রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে সরকারের কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। তাই কেন্দ্রের নতুন নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ওএনজিসির অধীনস্থ দুই সংস্থা— হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (এইচপিসিএল) এবং ম্যাঙ্গালোর রিফাইনারি অ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যালস (এমআরপিএল)— রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানিতে পুরোপুরি স্বাধীন। উল্লেখযোগ্যভাবে, এইচপিসিএল ও এমআরপিএল মিলিয়ে বছরে প্রায় ৪ কোটি টন অপরিশোধিত তেল শোধন করে, যার একটি অংশ দেশীয় চাহিদা মেটানোর পর রপ্তানি হয় পশ্চিমা দেশগুলিতে।
প্রথমে ভারতীয় আমদানির উপরে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প। পরে রুশ তেল কেনার কারণে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক বাড়ানো হয়। তবুও ভারত সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ তেলের অর্ডার দিয়েছে। কারণ সম্প্রতি উরাল ক্রুড তেলের দামে ব্যারেলপ্রতি তিন ডলার ছাড় দিয়েছে মস্কো, যা কার্যত ৫ শতাংশের সমান। সরকারিভাবে যদিও এ নিয়ে মুখ খোলেনি কেউ, তবে স্পষ্ট যে রাশিয়ার দিকেই ঝুঁকছে দিল্লি। ওএনজিসির বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, আপাতত এই অবস্থান থেকে সরে আসছে না ভারত।
এদিকে এই প্রেক্ষাপটে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) বৈঠকে যোগ দিতে চিনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে থাকবেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জন উনও। ফলে একদিকে ট্রাম্পের ‘শুল্কবোমা’, অন্যদিকে এশিয়ার শক্তিধর দেশগুলির নতুন জোট— বৈশ্বিক মঞ্চে তৈরি হচ্ছে এক ভিন্ন সমীকরণ।



