‘আমার সুন্দরী ছোট বোন…’, দিল্লিতে জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে কেন এমন সম্বোধন করলেন মোদি?
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

ভারত ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ও আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল রাজধানী দিল্লি। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে এসেছেন জাপানের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি (Sanae Takaichi)। আর প্রথম সফরেই তাঁকে এক অনন্য ও উষ্ণ অভ্যর্থনায় ভাসিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুধুমাত্র কূটনৈতিক প্রোটোকল নয়, তাকাইচিকে ‘আমার সুন্দরী ছোট বোন’ বলে সম্বোধন করে ভারত-জাপান বন্ধুত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন মোদি। ১৬তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে দুই রাষ্ট্রনেতার এই রসায়ন এখন আন্তর্জাতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।
🤝 ভাই-বোনের সম্পর্কে বাঁধা পড়ল ভারত-জাপান!
জাপানের প্রধানমন্ত্রী পদে বসার পর এটাই সানায়ে তাকাইচির প্রথম ভারত সফর। স্বাভাবিকভাবেই এই সফরকে ঘিরে দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক তৎপরতা ছিল। তবে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরুর আগেই মোদি ও তাকাইচির ব্যক্তিগত সম্পর্কের সমীকরণ সবাইকে চমকে দিয়েছে।
যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী নিজেই মোদির সঙ্গে তাঁর এই বিশেষ সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে আনেন। তিনি জানান:
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে ‘সুন্দরী ছোট বোন’ হিসেবে আলাপ করিয়ে দিয়েছেন।
দুই রাষ্ট্রনেতাই সম্মত হয়েছেন যে, আগামী দিনে ভারত ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কেবল মাত্র কূটনৈতিক স্তরে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা ‘ভাই-বোনের সম্পর্কের’ আদলে পরিচালিত হবে।
📈 ১০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ! ভারতের বিকাশে জাপানের জয়গান
উষ্ণ অভ্যর্থনার পাশাপাশি এই সফরে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও বড়সড় অগ্রগতি হয়েছে। যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতের সামগ্রিক উন্নয়নে জাপানের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
মোদি জানান, বিগত এক বছরে ভারত ও জাপানের মধ্যে প্রায় ১২০টি নতুন ব্যবসায়িক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ফলে আগামী দিনে ভারতে প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও (১,০০০ কোটি ডলার) বেশি জাপানি বিনিয়োগ আসতে চলেছে। এই বিপুল বিনিয়োগ ভারতের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
🌊 ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনকে রুখতে একজোট মোদি-তাকাইচি
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কথা মাথায় রেখে দুই দেশই কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত করতে একমত হয়েছে। ১৬তম বার্ষিক সম্মেলনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, বিশ্বজুড়ে যখন অস্থিরতা বাড়ছে, তখন ভারত ও জাপানকে যৌথভাবে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ হয়ে উঠতে হবে।
বৈঠকে মূলত ৩টি প্রধান ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে:
১. কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার: বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও কৌশলগত বিষয়ে মোদি ও তাকাইচি সম্পূর্ণ অভিন্ন অবস্থানে রয়েছেন।
২. মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক ভিশন: জাপানের ‘ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক’ ভিশন আসলে প্রধানমন্ত্রী মোদির ‘মহাসাগর’ (SAGAR) নীতির সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।
৩. সামুদ্রিক নিরাপত্তা: সমগ্র ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক আইন বজায় রাখতে দুই দেশের নৌসেনা ও নিরাপত্তা সংস্থা যৌথভাবে কাজ করবে।



