রাজ্য

পুজোর জৌলুসে কি পড়বে ভাটা? পালাবদলের পর তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীদের দুর্গাপুজো ঘিরে বাড়ছে জল্পনা

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

পুজোর জৌলুসে কি পড়বে ভাটা? পালাবদলের পর তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীদের দুর্গাপুজো ঘিরে বাড়ছে জল্পনা - West Bengal News 24

কলকাতার দুর্গাপুজোর অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে বহু বছর ধরেই পরিচিত শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব। প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বোসের উদ্যোগে আয়োজিত এই পুজোর জাঁকজমক প্রতি বছরই দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে। শুধু শ্রীভূমিই নয়, উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতা জুড়ে তৃণমূলের একাধিক নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রীর উদ্যোগে আয়োজিত বহু বড় বাজেটের পুজো রয়েছে। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একের পর এক প্রাক্তন মন্ত্রী, কাউন্সিলর-সহ বহু নেতার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ ও গ্রেপ্তারির আবহে এ বছরের দুর্গাপুজো ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শহরের পরিচিত পুজোগুলি আগের মতো জাঁকজমক বজায় রাখতে পারবে কি না, তা নিয়েই জোর চর্চা চলছে।

দুর্গাপুজোর আর চার মাসও বাকি নেই। সাধারণত এই সময় থেকেই শহরের বড় পুজোগুলিতে মণ্ডপ নির্মাণের কাজ জোরকদমে শুরু হয়ে যায়। কিন্তু এ বছর অনেক জায়গাতেই সেই ছবি দেখা যাচ্ছে না। অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত সুরুচি সংঘে এখনও পর্যন্ত পুজোর প্রস্তুতির তেমন কোনও চিহ্ন নেই। অন্যদিকে গড়িয়াহাটের হিন্দুস্তান ক্লাব ও ত্রিধারার পুজোর সঙ্গে যুক্ত প্রাক্তন বিধায়ক চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং দেবাশিস কুমারও বর্তমানে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানে রয়েছেন। যদিও দেবাশিস কুমারের দাবি, পুজোর এখনও অনেক সময় বাকি রয়েছে এবং যতটা অর্থ সংগ্রহ হবে, সেই অনুযায়ীই আয়োজন করা হবে। পাটুলির কেন্দুয়া শান্তি সংঘের প্রধান উদ্যোক্তা তথা কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে থাকায় সেখানে এখনও প্রস্তুতির গতি দেখা যায়নি। যদিও ক্লাব কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতি বছরের মতো এবারও নিয়ম মেনেই দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হবে। একইভাবে রাজডাঙা নব উদয় সংঘের পৃষ্ঠপোষক সুশান্ত ঘোষও বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে থাকায় ওই পুজোর জাঁকজমক নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন :: অবশেষে হার স্বীকার মমতার! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে কী বললেন তৃণমূল সুপ্রিমো?

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে কলকাতার বিভিন্ন পুজো কমিটিকে সরকারি অনুদান দেওয়ার প্রথা ছিল। ২০২৫ সালে সেই অনুদানের পরিমাণ ক্লাবপিছু ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছিল। ফলে রাজ্য সরকারের বিপুল অর্থ পুজোর জন্য বরাদ্দ হত। পাশাপাশি এই পুজোগুলিকে ঘিরে বিপুল আর্থিক লেনদেনও হত। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, সেই অর্থের একটি অংশ নেতা-মন্ত্রীদের কাছেও পৌঁছত। লেকটাউন এলাকার একাংশের বাসিন্দাদের দাবি, শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের নামে সংগ্রহ হওয়া অর্থের প্রায় ৫০ শতাংশ সুজিত বোসের কাছে যেত। সেই কারণেই এ বছর শ্রীভূমির চিরচেনা চাকচিক্য নাও দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পরিবর্তে সাবেকি প্রতিমা, সনাতনী ধাঁচ এবং পাড়ার পুজোর আবহেই আয়োজন করার পরিকল্পনা চলছে। পাশাপাশি পিতৃপক্ষে দুর্গাপুজোর উদ্বোধনেরও বিরোধিতা করেছেন এলাকার একাংশের বাসিন্দা। সুজিত বোসের অনুপস্থিতিতে খুব শীঘ্রই নতুন কমিটি গঠন করে পুজো সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।

শুধু শ্রীভূমিই নয়, শহরের আরও একাধিক পুজো কমিটিতেও পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। অনেক জায়গাতেই বাজেট কমানো হচ্ছে, এমনকি শিল্পী পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হচ্ছে। তার অন্যতম উদাহরণ ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়ার পুজো। তৃণমূল কাউন্সিলর অসীম বসুর সঙ্গে যুক্ত এই পুজোর আকারও এ বছর তুলনামূলকভাবে ছোট হতে পারে বলে খবর। অন্যদিকে টালা প্রত্যয়ের পুজো নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু হলেও বেআইনিভাবে মাঠ দখলের অভিযোগ ওঠায় সেই কাঠামো খুলে ফেলতে হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শিল্পী পরিবর্তন করে অনেকটাই সাদামাটা আয়োজনের পথে হাঁটতে পারে টালা প্রত্যয়। এছাড়াও এই পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তার নাম ‘মাস আর্ট’ প্রদর্শনীর সঙ্গে জড়িয়েছে। যে প্রদর্শনীকে এতদিন ইউনেসকো স্বীকৃত বলে প্রচার করা হয়েছিল, সম্প্রতি সেই সংস্থার নাম ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। ফলে টালা প্রত্যয়ের দুর্গাপুজো নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এ বছর সব পুজো কমিটিকে সরকারি অনুদান দেওয়া হবে না। বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের বক্তব্য, পুজোর আয়োজন আরও বড় পরিসরে হোক এবং তার জন্য বেসরকারি স্পনসর এগিয়ে আসুক। হাতিবাগান সর্বজনীনের পুজোর সঙ্গে যুক্ত অতীন ঘোষেরও দাবি, কোনও পুজো কতটা আকর্ষণীয়ভাবে আয়োজন করা হচ্ছে, তার উপরই স্পনসর পাওয়া নির্ভর করবে। তবে এই সব জটিলতার মধ্যেও ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া সুদীপ পোল্লের সঙ্গে যুক্ত বড়িষা ক্লাবে খুঁটিপুজো সম্পন্ন হয়েছে। একইভাবে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের চেতলা অগ্রণীর পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, এ বছরও ধুমধাম করেই দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হবে।

এখন নজর থাকবে, কলকাতার বড় বাজেটের পুজোগুলির মধ্যে কোনগুলি আগের মতোই নিজেদের জৌলুস বজায় রাখতে পারে এবং কোনগুলি সীমিত পরিসরে আয়োজন করেই ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button