‘ডিমের বদলে এবার ঢিল পড়বে!’ পঞ্চায়েত প্রধানদের চরম হুঁশিয়ারি মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের, কেন উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি?
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

West Bengal Panchayat News: রাজ্যের গ্রামীণ উন্নয়ন থমকে যাওয়ার অভিযোগে এবার কড়া সুর চড়ালেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। দিনের পর দিন দফতরে অনুপস্থিত থাকছেন পঞ্চায়েত প্রধানেরা। এই নিয়ে দলীয় লাইনের ঊর্ধ্বে গিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন মন্ত্রী। সাফ জানালেন, কাজ না করলে এবার আর ডিম নয়, সাধারণ মানুষ বাড়িতে ঢিল মারবে! বিধানসভা নির্বাচনের পর বাংলার পঞ্চায়েত স্তরের এই অচলাবস্থা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
📌 ২ হাজার পঞ্চায়েত প্রধান উধাও! থমকে গ্রামীণ উন্নয়ন
রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের বিস্ফোরক দাবি, এই মুহূর্তে রাজ্যের প্রায় দু’হাজার পঞ্চায়েত প্রধান ধারাবাহিকভাবে দফতরে অনুপস্থিত। গ্রামীণ এলাকার রাস্তাঘাট, জল বা আলোর মতো যাবতীয় সরকারি উন্নয়নমূলক কাজ মূলত পঞ্চায়েতের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হয়। কিন্তু প্রধানদের অনুপস্থিতির কারণে:
ফাইলে সই হচ্ছে না।
থমকে রয়েছে কোটি কোটি টাকার উন্নয়নমূলক প্রজেক্ট।
সাধারণ মানুষ শংসাপত্র বা জরুরি কাজের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন।
আরও পড়ুন :: ‘প্রতীক চলে গেলেও কুছ পরোয়া নেহি, গলায় সিম্বল ঝুলিয়ে বাড়ি বাড়ি যাব!’ ২১ জুলাই নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি মমতার
মন্ত্রীর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি: “প্রায় দু’হাজার প্রধান অফিসে যাচ্ছেন না। অনেকেই পালিয়ে গিয়েছেন। আমরা বলব, হয় পদত্যাগ করুন, না হলে কাজে ফিরুন। এভাবে কাজ বন্ধ থাকলে মানুষ এবার ডিমের বদলে বাড়িতে ঢিল মারবে।”
উল্লেখ্য, রাজ্যের সিংহভাগ পঞ্চায়েতই বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে ছিল। গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্ক বরাবরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করেছে। তবে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে শাসকদলের ভরাডুবির পর থেকেই পুরসভা ও পঞ্চায়েত স্তরে ব্যাপক ধস নেমেছে।
অভিযোগ উঠছে, বহু পঞ্চায়েত নেতা বর্তমানে ‘গা ঢাকা’ দিয়েছেন। অনেক জেলায় পঞ্চায়েত বোর্ড ভেঙে গিয়েছে এবং বহু নেতা ইতিমধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে গ্রামীণ ভারতের সাধারণ মানুষের জনজীবনে।
তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানেরা যে ইচ্ছাকৃতভাবে কাজে ফাঁকি দিচ্ছেন না, তা নিয়ে সরব হয়েছেন দলের মমতাপন্থী শিবিরের নেতারা। এই প্রসঙ্গে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন :: পুজোর জৌলুসে কি পড়বে ভাটা? পালাবদলের পর তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীদের দুর্গাপুজো ঘিরে বাড়ছে জল্পনা
তাঁর পালটা অভিযোগ, “পঞ্চায়েত প্রধানেরা অফিসে যাচ্ছেন না, এটা সম্পূর্ণ ভুল কথা। তাঁদের অফিসে যেতে দিচ্ছে না বিজেপির কর্মী এবং পুলিশ। প্রধানেরা অফিসে গেলেই পুলিশ মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করছে। পুলিশই এখন পঞ্চায়েত অফিস পাহারা দিচ্ছে আর মন্ত্রী দূর থেকে মজা নিচ্ছেন।”
অন্যদিকে, রাজ্যের প্রাক্তন পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার অবশ্য কিছুটা রক্ষণাত্মক সুরে বলেন, “বর্তমান মন্ত্রী নিশ্চয়ই কোনো তথ্যের ভিত্তিতে এই কথা বলেছেন, তবে আমার সবটা জানা নেই। পরিস্থিতি অনুযায়ী অনেক কিছুই হতে পারে।”
ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই রাজ্যের একাধিক তৃণমূল নেতা, প্রাক্তন বিধায়ক ও কাউন্সিলর তোলাবাজি সহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। আদালত চত্বরে বা রাস্তায় নিয়ে যাওয়ার সময় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ ও বিজেপি কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে ধৃত নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে।
গ্রেফতার হওয়া নেতাদের ওপর এই ‘ডিম হামলা’ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে যখন বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক তখনই দিলীপ ঘোষের মুখে ‘ডিমের বদলে ঢিল’ পড়ার হুঁশিয়ারি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। মন্ত্রীর বার্তা পরিষ্কার— এবার শুধু ক্ষোভ নয়, কাজ না হলে গ্রামীণ মানুষের জনরোষ আরও হিংসাত্মক রূপ নিতে পারে।



