ওপার বাংলা

‘মৃত্যু এলেও দেশের মাটিতেই আসুক!’ ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা, আত্মসমর্পণ নিয়ে তোলপাড় ওপার বাংলা

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

‘মৃত্যু এলেও দেশের মাটিতেই আসুক!’ ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা, আত্মসমর্পণ নিয়ে তোলপাড় ওপার বাংলা - West Bengal News 24

বাংলাদেশে জারি হয়েছে মৃত্যু পরোয়ানা! কিন্তু সব ভয়কে দূরে সরিয়ে এবার বিস্ফোরক ঘোষণা করলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রয়টার্সকে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে বঙ্গবন্ধুকন্যা সাফ জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরেই তিনি বাংলাদেশে ফিরছেন। শুধু তাই নয়, দেশে ফিরে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে এবং আত্মসমর্পণ করতেও প্রস্তুত। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা হাসিনার এই হঠাৎ ঘোষণায় ওপার বাংলার রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডের সাজা মাথায় নিয়েও কেন দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত? সাক্ষাৎকারে আবেগঘন কণ্ঠে ৭৮ বছর বয়সী আওয়ামী লীগ নেত্রী বলেন: “আমি ফিরলেই ওরা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি আমাকে মেরেও ফেলতে পারে। তবু আমি ফিরব। আমার দলের নেতানেত্রী ও কর্মীরা এখন চরম চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। মৃত্যু যদি আসেই, তাহলে আমার দেশের মাটিতেই আসুক। যেখানে আমার মা-বাবা শুয়ে আছেন, যে মাটিতে তাঁদের রক্ত মিশে আছে, আমি সেখানেই ফিরতে চাই।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডিসেম্বরে দলীয় শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শেখ হাসিনার এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।

দীর্ঘ শাসনামলে সরকারের কিছু ভুলের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন হাসিনা। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন:

  • প্রশাসনের ভুল: “যখন কোনও সরকার দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকে, কিছু ভুলভ্রান্তি হতেই পারে। কোনও প্রশাসনই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়।”

  • জনগণের উপর আস্থা: “ভালো-মন্দ বা ঠিক-ভুল বিচারের দায়িত্ব একমাত্র জনগণের। আমি মানুষের উপরই সেই ভার ছেড়ে দিলাম।”

  • দল নিষিদ্ধের প্রতিবাদ: “ওরা আমাকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারে, ভোটে লড়তে নাও দিতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগকে কেন নিষিদ্ধ করা হলো? আমরা যদি খারাপ কিছু করে থাকি, দেশের মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে তার বিচার করত।”

২০২৪ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গণঅভ্যুত্থানের জেরে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিল্লিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। এরপর নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার।

সম্প্রতি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গণহত্যা মামলায় শেখ হাসিনা এবং তাঁর ক্যাবিনেটের বেশ কয়েকজন মন্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করায় দলটির কোনও প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি।

নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও বাংলাদেশের বাইরে থেকে দল পুনর্গঠনের কাজ নীরবে চালিয়ে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। নয়াদিল্লিতে বসেই ডিজিটাল মাধ্যমে দলের হাল ধরেছেন তিনি।

হাসিনা জানিয়েছেন, তিনি নিয়মিত অনলাইন বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১২৫টি আসনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখছেন। তৃণমূল স্তরে আওয়ামী লীগকে আবার চাঙ্গা করাই এখন তাঁর মূল লক্ষ্য।

আরও পড়ুন ::

Back to top button