রাজনীতিরাজ্য

আইপ্যাকের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতাই সর্বনাশ! ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলে জেলা সভাপতির দায়িত্ব পেয়ে বিস্ফোরক অনুব্রত

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

আইপ্যাকের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতাই সর্বনাশ! ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলে জেলা সভাপতির দায়িত্ব পেয়ে বিস্ফোরক অনুব্রত - West Bengal News 24

নির্বাচনী কৌশল তৈরির ক্ষেত্রে আইপ্যাকের উপর অত্যধিক নির্ভরতাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূলের একাংশের মুখে এমন অভিযোগ শোনা গিয়েছিল। আইপ্যাকের বিরোধিতা করে কেউ ঘাসফুল শিবির ছেড়েছেন, আবার কেউ দলে থেকেই অবস্থান বদলেছেন। এবার ঋতব্রত শিবিরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার পর আইপ্যাককে কাঠগড়ায় তুললেন তৃণমূলের পুরনো নেতা তথা বীরভূমের দাপুটে সংগঠক অনুব্রত মণ্ডল।

শনিবার অনুব্রত মণ্ডলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বীরভূম জেলা সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছে ঋতব্রত শিবির। একসময় এককভাবে এই দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। এদিন তাঁর কলকাতায় আসার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে উপস্থিত হতে পারেননি। তবে নতুন দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি আগেই জানতে পেরেছিলেন অনুব্রত। প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘বিধানসভা এবং লোকসভা ভোটে প্রার্থীদের জয়যুক্ত করিয়েছি। তখন আইপ্যাক ছিল না। কী এমন হল যে আমাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল? আমি তৃণমূলকে ভালোবাসি। কংগ্রেস থেকে তৃণমূল হয়েছি। সকলকে নিয়েই দলের নির্দেশ মেনেই টিম বীরভূম পরিচালনা হবে।”

আরও পড়ুন :: বারাকপুর পর্যন্ত মেট্রো সম্প্রসারণে বাধা জলের পাইপলাইন! সমীক্ষার দায়িত্ব পেল আইআইটি খড়গপুর

বীরভূমে তৃণমূলের সংগঠনের প্রধান মুখ হিসেবে দীর্ঘদিন কার্যত অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন অনুব্রত। তাঁর নেতৃত্বে রাঙামাটির জেলায় শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলে বিজেপির উত্থান ঠেকাতে সক্ষম হয়েছিল তৃণমূল। গরু পাচার মামলায় প্রায় দু’বছর জেলবন্দি থাকার পর জামিনে মুক্ত হয়ে ফিরলেও তাঁর জেলা সভাপতির পদ বহাল ছিল। শেষ লোকসভা নির্বাচনেও বীরভূমের দু’টি আসন তৃণমূলের দখলে থাকার নেপথ্যে অনুব্রতর তৈরি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করে।

পরবর্তী সময়ে জেলায় দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বাড়তে থাকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর এককভাবে অনুব্রতর হাতে সাংগঠনিক দায়িত্ব রাখেননি। বীরভূমের সংগঠন পরিচালনার জন্য একটি কোর কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটিতে অনুব্রত ছিলেন কেবল একজন সদস্য। এরপর থেকেই তাঁর মধ্যে ক্ষোভ জমতে শুরু করেছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছিল। দীর্ঘদিন পর সেই অসন্তোষ প্রকাশ্যে এল।

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে দলের হতাশাজনক ফল এবং পরবর্তী ভাঙন প্রসঙ্গে অনুব্রত বলেছিলেন, ‘‘নতুন-পুরনো জানি না, আমি তৃণমূলকে ভালোবেসে দলটা করি। সম্মানের সঙ্গে দলের কাজ করব।” এর কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার তপসিয়ায় ঋতব্রতদের বৈঠকের পর জানা গিয়েছিল, দলের এই পুরনো ও অভিজ্ঞ সংগঠককে আবার বীরভূম জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। শনিবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় সেই জল্পনাতেই সিলমোহর পড়ে।

জ্বরের কারণে এদিন কলকাতার বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি অনুব্রত। বোলপুরের বাড়ি থেকে তিনি বলেন, ‘‘আমার প্রচণ্ড জ্বর। শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় বোলপুরের নিচুপট্টি বাড়িতে রয়েছি। কলকাতার বৈঠকে উপস্থিত হতে পারিনি। আগেও ছিলাম আবারও জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সকলকে নিয়েই দলের নির্দেশ মেনেই টিম বীরভূম পরিচালনা হবে।”

ঋতব্রত শিবিরে অনুব্রতর এই পদপ্রাপ্তিকে কটাক্ষ করেছেন কালীঘাট তৃণমূলের অন্যতম সদস্য তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন আসানসোলে দাঁড়িয়ে শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ বলেন, “আমরা খুব হ্যাপি। আমি খুব হ্যাপি যে অনুব্রতকে নিয়েছে। আই অ্যাম ভেরি হ্যাপি যে অনুব্রত মণ্ডলকে অন্তত শুভেন্দু অধিকারী নিয়ে বলছে, এ হচ্ছে ধোয়া তুলসী পাতা।”

আরও পড়ুন ::

Back to top button