আকাশে উড়ছে প্লেন, অবাক গোপীবল্লভপুর !

নিজেস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: ‘স্রেফ শখেই ‘রিমোট কন্ট্রোল এরোপ্লেন উইথ ক্যামেরা’ বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন বছর একুশের শুভদীপ কর। পেশায় মহারাষ্ট্রের একটি সংস্থার সফ্টঅয়্যার সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ার শুভদীপের তৈরি সেই প্লেন পরীক্ষামূলকভাবে ওড়ানো হয়েছে গোপীবল্লভপুরের আকাশে।
করোনার কারণে গত মে মাসে পুণের কর্মস্থল থেকে চলে আসেন গোপীবল্লভপুরের পশ্চিম নয়াবসান গ্রামের বাড়িতে।
বাড়ি থেকেই অনলাইনে তাঁর সংস্থার কাজকর্ম করছেন শুভদীপ। আড়াই ফুট দৈর্ঘ্য ও চার ফুট প্রস্থের এরোপ্লেনটিকে বলা হয় ‘এফপিভি’ (ফার্স্ট পার্সন ভিউ)। এ ধরনের প্লেন ওড়াতে গেলে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। তবে তৈরির সময় পরীক্ষামূলক ভাবে ওড়ানো যায়।
সাধারণত, প্রতিরক্ষা বিভাগের কাজকর্মে এ ধরনের ‘এফপিভি’ ব্যবহার করা হয়। ড্রোনের থেকে ‘এফপিভি’ এরোপ্লেন কিছুটা আলাদা। ড্রোন আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় স্থির ভাবে নিচের ছবি তুলতে পারে। যে কোনও জায়গায় ড্রোন তৎক্ষণাৎ নামানো বা ওড়ানো যায়।
কিন্তু এফপিভি এরোপ্লেন ‘টেক-অফ’ এবং ল্যান্ডিংয়ের জন্য কিছুটা জায়গা দরকার। চলন্ত অবস্থায় ছবি তুলতে থাকে। ঝড়ো হাওয়ায় ড্রোনের মাটিতে মাছড়ে পড়ার সম্ভবনা থাকে। এফপিভিতে সেটা হয় না। এফপিভি দীর্ঘসময় আকাশে ওড়ানো যায়। শুভদীপের তৈরি এফপিভি প্লেনটি দু’কিমি পরিধির মধ্যে ওড়ানো যায়।
আরও পড়ুন: দলিত–কন্যা আমার মেয়ে, হাথরসে আমি যাবই: মুখ্যমন্ত্রী
পুণের ‘সিকিউরিটি ইনোভেশন’ নামে এক সংস্থায় সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে বিভিন্ন সফটঅয়্যারের সিকিউরিটি টেস্টিংয়ের দায়িত্বে রয়েছেন শুভদীপ। সংস্থার নির্দেশে ওয়ার্ক ফ্রম হোম করছেন। শুভদীপ বলেন, ‘‘কাজের অবসরে নেহাতই শখে এফপিভি এরোপ্লেনটি বানিয়েছি। সময় লেগেছে দু’মাস।
কেন্দ্রীয় সরকারের সিভিল এভিয়েশন মন্ত্রকের অধীনে ডাইরেক্টোরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন-এ প্রয়োজনীয় অনুমতির জন্য আবেদন করেছি।” শুভদীপ জানান, ব্যবসায়িক ভিত্তিতে এই প্লেন তিনি বিক্রি করতে চান না।
তবে প্রশাসন যদি আপৎকালীন প্রয়োজনে আকাশ থেকে কিছু নজরদারি করতে চায়, তাহলে এই প্লেন তিনি দিতে রাজি আছেন। প্রতিবেদক-স্বপ্নীল মজুমদার



