ঝাড়গ্রাম

করোনা কালে মানুষের পাশে রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসী

স্বপ্নীল মজুমদার

করোনা কালে মানুষের পাশে রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসী - West Bengal News 24

ঝাড়গ্রাম: মানুষের সেবায় নিয়োজিত তিনি। শ্রীরামকৃষ্ণ, মা সারদা ও স্বামী বিবেকানন্দের আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে একসময় জঙ্গলমহলের জেলা ঝাড়গ্রামের একলব্য আদর্শ আবাসিক স্কুলের ভোল বদলে দিয়েছেন। এখন ত্রিপুরার আগরতলায় অসহায় মানুষজন তাঁর সেবা ও স্নেহের পরশ পেয়ে ধন্য হচ্ছেন। তিনি রামকৃষ্ণ মিশনের কর্মবীর সন্ন্যাসী স্বামী শুভকরানন্দ। সকলের শ্রদ্ধার মানুষটি শান্তনু মহারাজ নামে বেশি পরিচিত।

বছর খানেক আগে ঝাড়গ্রাম রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম ছেড়ে চলে গিয়েছেন আগরতলা মিশনের সম্পাদকের দায়িত্বে। এখন করোনা আবহে আগরতলায় নাইট কারফিউ চলছে। কিন্তু মানবসেবায় অবিচল শান্তনু মহারাজ বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরে মিশনের তরফে পথবাসীদের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন। মিশনের ব্যবস্থাপনায় ৩৫৮ জনকে করোনার প্রতিষেধক দেওয়ানো হয়েছে। মিশনের অতিথিশালা এখন করোনা আক্রান্তদের নিভৃতবাসের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

ঝাড়গ্রাম শহরে আদিবাসীদের সরকারি হতশ্রী একলব্য স্কুলটির খোলনলচে বদলে দিয়েছিলেন স্বামী শুভকরানন্দ। ঝাড়গ্রাম একলব্য আদর্শ আবাসিক বিদ্যালয়ে একসময় চরম দুর্দশার মধ্যে থাকত আদিবাসী ছাত্রছাত্রীরা। স্কুলটির মানোন্নয়নের জন্য বহু আন্দোলন করেছিলেন অভিভাবকেরা। ২০১৬ সালে অনগ্রসর সম্প্রদায় কল্যাণ দপ্তর ও আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের অধীনে থাকা স্কুলটির দায়িত্ব রামকৃষ্ণ মিশনের হাতে তুলে দেয় রাজ্য সরকার। ওই বছরেই বেলুড় মঠ কর্তৃপক্ষ শুভকরানন্দ মহারাজকে স্কুল পরিচালনার দায়িত্বে পাঠান। ঝাড়গ্রামের একলব্য স্কুলটি এখন রাজ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

সরকারি খরচে মিশনের তত্ত্বাবধানে এই স্কুলে হোস্টেলে থেকে পড়াশুনা করে আদিবাসী ছাত্র-ছাত্রীরা। গত তিন বছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফল করে নজর করেছে এই স্কুলের পড়ুয়ারা। প্রশাসনের আধিকারিকদের মতে, এই উত্তরণের যাবতীয় কৃতিত্ব শুভকরানন্দ মহারাজের। কিন্তু সব ভালোর মধ্যেও সমালোচনা থাকে। এই স্কুলে বিশৃখলা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগে প্রাক্তন টিচার ইনচার্জকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। শুভকরানন্দ মহারাজের বিরুদ্ধে একসময় নানা ধরনের অপপ্রচারও করা হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। যার কারণে তিনি মানসিক ভাবে খুবই আঘাত পান।

তবে সন্ন্যাসীর জীবনে থেমে থাকার কোনও অবকাশ নেই। স্কুলটির উন্নতির জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে এক অনন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলেছেন তিনি। স্কুলের পাশে রাজ্য সরকারের দেওয়া ৫ একর জমিতে শুভকরানন্দ মহারাজের প্রচেষ্টায় তৈরি হয়েছে মিশনের ঝাড়গ্রাম শাখার প্রার্থনা সভাঘর। মঠ-মিশনের আশ্রিতরা সেখানে নিয়মিত যান।

শুভকরানন্দ মহারাজ মিশনের ঝাড়গ্রাম শাখার প্রথম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান। গত বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে ঝাড়গ্রামের অসহায় মানুষজনের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছিলেন শুভকরানন্দ মহারাজ। এখন আগরতলায় সেই একই পরিষেবা দিয়ে চলেছেন শান্তনু মহারাজ।

আরও পড়ুন ::

Back to top button