
বাক্স প্যাঁটরা গুছিয়ে জামাকাপড় পরে তৈরি হচ্ছেন জেলের কয়েদিরা। দল বেঁধে ‘ঘর’ ছাড়বেন তাঁরা। বাসের জন্য লাইন দিয়ে অপেক্ষাও করলেন নিয়ম মেনে। যেন স্কুল থেকে কোথাও ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে পড়ুয়াদের। না, কয়েদিদের ছুটি হয়ে যায়নি। জেলের ঘানি তাঁদের টানতে হবে ঠিকই, তবে এবার ঠিকানা বদল। কেন? কারণ তেলেঙ্গানার ওয়ারাঙ্গল সেন্ট্রাল জেল এবার নতুন সাজে সেজে উঠবে। সেখানে গড়ে উঠবে একটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল।
নিজাম আমলের ১৩৫ বছরের পুরনো এই কারাগারকে সম্প্রতি হাসপাতালে বদলে ফেলার জন্য স্বাস্থ্য দফতরের হাতে তুলে দিয়েছে তেলেঙ্গানা সরকার। গোটা জেলে মোট কয়েদি সংখ্যা আপাতত ৯৬৬। এঁদের মধ্যে প্রথম ব্যাচের ১১৯ জনকে এদিন অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হয়েছে। জানা গেছে, ৩ ঘণ্টার বাস জার্নি করে পুরুষ কয়েদিদের নিয়ে যাওয়া হবে হায়দরাবাদের চেরাপল্লী জেলে। আর মহিলাদের গন্তব্য তাঁদের জন্য বিশেষ কারাগার।
আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যেই ওয়ারঙ্গল সেন্ট্রাল জেলের সমস্ত কয়েদিকে অন্যত্র স্থানান্তরিত করে ফেলা হবে বলে খবর। জেল থেকে প্রায় হাজার কয়েদিকে স্থানান্তরিত করার প্রক্রিয়া বিশেষ সুবিধার নয়, মেনে নিয়েছেন তেলেঙ্গানার ডিজি রাজীব ত্রিবেদীও। কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মাধ্যমে এই গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। কোনও অসুবিধা হবে না বলেই আশাবাদী তিনি। তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও গত মাসেই কারাগারকে হাসপাতালে বদলে ফেলার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
আগামী এক বছরের মধ্যে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা হবে। দেশ জুড়ে কোভিড পরিস্থিতির মাঝে জেলে হাসপাতাল বসানোর এই সিদ্ধান্ত প্রশংসা কুড়িয়েছে। নতুন এই হাসপাতালে আধুনিক চিকিত্সা পদ্ধতি ব্যবহারে জোর দিতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘শাস্তির চেয়েও পরিবর্তন, প্রশিক্ষণ বেশি দরকার।’ জেল থেকে হাসপাতাল তৈরির নজির এর আগেও দেখা গেছে তেলেঙ্গানায়। ২০০৩ সালে ৮৮ বছরের পুরনো মুশিরদাবাদ জেলকে হাসপাতাল বানানো হয়েছিল। এখন তা গান্ধী হাসপাতাল নামে পরিচিত। কোভিড কালে রোগীদের বড় ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে সেই হাসপাতাল।
সুত্র : দ্য ওয়াল



