
বছর ঘুরলেই পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। সেই তালিকায় নাম রয়েছে উত্তরাখণ্ডের। ভোটমুখী সেই রাজ্যে বৃহস্পতিবার সফর করলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি শিলান্যাস করেন সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের। পাশাপাশি হলদোয়ানির সেই অনুষ্ঠান থেকে রাজ্যের পূর্বতন কংগ্রেস সরকারকে তোপ দাগেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘গত ২০ বছরে উত্তরাখণ্ডকে দুই হাতে লুটেছে পূর্বতন শাসকেরা। তাদের নীতি ছিল আপনারা লুটপাট চালান কিন্তু আমার সরকারকে বাঁচান।’ এদিন তিনি চারধাম যাত্রা সড়ক প্রকল্প, নমামি গঙ্গের আওতাভুক্ত নিকাশি ব্যবস্থাপনা, নাগিনা-কাশীপুর জাতীয় সড়ক প্রকল্পের শিলান্যাস করেন।
এই অনুষ্ঠানে জাতীয় সুরক্ষা প্রশ্নেও পূর্বতন শাসক দলের নাম না করে সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আগে নানাভাবে আমাদের জাতীয় সুরক্ষার সঙ্গে আপস করা হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা, ওয়ান র্যাঙ্ক- ওয়ান পেনশন প্রকল্প ঝুলিয়ে রাখা, বুলেট প্রুফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা এমনকি শত্রুপক্ষকে জবাব। প্রতিক্ষেত্রেই ওরা সেনাবাহিনীকে অপমান করেছে।’
এদিকে, উত্তরাখণ্ড ভোটে কংগ্রেসের মুখ রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হরিশ রাওয়াতই। সরকারি ভাবে এই ঘোষণা হলেও, প্রদেশ কংগ্রেসকে সেই বার্তা পৌঁছে দিয়েছে হাইকমান্ড।দলে গোষ্ঠীকোন্দলের অভিযোগ তুলে সম্প্রতি রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেওয়ার প্রসঙ্গ তুলেছিলেন রাওয়াত। এবার কার্যত তাঁকেই আগামি ভোটে মুখ করে কৌশল সাজাবে উত্তরাখণ্ড কংগ্রেস।
আরও পড়ুন: মোটেই সুবিধার নয় কলকাতার ওমিক্রন-পরিস্থিতি, চিঠি এল নবান্নে!
গত সপ্তাহে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধির উপস্থিতিতে দীর্ঘ বৈঠক হয় প্রদেশ কংগ্রেসের। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা, প্রদেশ সভাপতি, কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ-সহ রাওয়াতও উপস্থিত ছিলেন সেই বৈঠকে। যদিও পৃথকভাবে প্রত্যেক নেতা দিল্লিতে রাহুল গান্ধির সঙ্গে দেখা করেছেন। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু সরকারি ভাবে রাওয়াতের নাম ঘোষণা করবে না কংগ্রেস। বাইশের নির্বাচনে তিনিই দলকে নেতৃত্ব দিবেন। এটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
জানা গিয়েছে, উত্তরাখণ্ড বিধানসভা নির্বাচনে জিতে কংগ্রেস সরকার গড়তে সমর্থ হলে, সনিয়া গান্ধি মুখ্যমন্ত্রিত্বের নাম ঘোষণা করবেন। সেটাই হবে সরকারি ভাবে পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচন।
এদিকে, বছর ঘুরলেই উত্তরাখণ্ডে বিধানসভা ভোট। তার আগেই নিজের দল নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা হরিশ রাওয়াত। যাকে কেন্দ্র করে পার্বত্য রাজ্যের রাজনীতি তোলপাড়। এই ঘটনায় প্রকট উত্তররাখণ্ডে হাতশিবিরের অন্দরের দলাদলিও।
সুত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা



