
ঝাড়গ্রাম: পুরপ্রধানের দৌড় থেকে ছিটকে গিয়েছেন। তবে কাউন্সিলর হয়েও যে তিনি ব্যতিক্রমী কিছু করতে চান সেটা ঝাড়গ্রাম পুরসভার নব নির্বাচিত কাউন্সিলদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বুঝিয়ে দিলেন অজিত মাহাতো। বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রাম পুরভবন প্রাঙ্গণে কুড়মালি ভাষায় শপথ নিলেন ১০ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত অজিত।
এদিন শুরুতে ১,২,৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরা বাংলায় শপথ নেন। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সুখি সরেন শপথ নেন সাঁওতালি ভাষায়। এরপর বাকিরা কেউ বাংলা কেউ ইংরেজিতে শপথ নেন। বাসন্তী রঙের পাঞ্জাবি পরে অজিত শপথের কাগজ নিয়ে সাবলীল ভাবে কুড়মালিতে বলতে শুরু করেন, “ঝাড়্গরাম, পউরঅসভাকর পউরঅ এলাকাকর দশ নমবর অউআডেক হেইকে ভটে জিতল কাউনসালার হেইকে বুঢ়াবাপেক আর মাহামাঞএক (ভপঅবানেক) নাম লেইকে/ সাঁচা আর নিসটাক সঁগে মনগতরে কিরা খাহাঁ জে, নিঅমেক থাপল ভারতেক সঁপবিধানেক ঠিন মঞ্চ নিজবুত আসলি বিসুআস আর পটালিআ মানি চলাক খচর পসি রাখম আর মঞ জে দাইভারে জড়াই জাহঁঅ সেটা বিসুআসেক সঁপে পালম।” উপস্থিত জনতাকে অবাক করে দিয়ে অজিত এদিন শপথ নিলেন।
আরও পড়ুন :: লোকসভায় দাঁড়িয়ে ঝালদায় কাউন্সিলর খুনে সিবিআই তদন্তের দাবি অধীর চৌধুরীর
এদিন ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মী হেমব্রম সাঁওতালিতে শপথ নেন। পরে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের গৌতম মাহাতোও কুড়মালি ভাষায় শপথ নেন। সবাইকে শপথ বাক্য পাঠ করান ঝাড়গ্রাম সদরের মহকুমাশাসক বাবুলাল মাহাতো। কাউন্সিলদের শপথের পরে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কবিতা ঘোষ পুরপ্রধান পদে নির্বাচিত হন। তবে দলের সিদ্ধান্ত হলেও এদিন উপ পুরপ্রধান পদে সুখী সরেনকে নির্বাচিত করা হয়নি। সোমবার তাঁকে নির্বাচিত করার জন্য নোটিশ জারি করা বলে জানান পুরপ্রধান কবিতা ঘোষ।

অজিত এদিন আগাগোড়া খোস মেজাজে ছিলেন। রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূলের প্রাক্তন মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পছন্দের জেলা তৃণমূলের কো – অর্ডিনেটর অজিত পুরপ্রধানের দৌড়ে ছিলেন। কিন্তু তৃণমূলের শীর্ষ স্তরের পছন্দ ছিলেন কবিতা ঘোষ।
তবে অজিতকে পুরসংসদে পূর্ত দফতর দেওয়ার জন্য সওয়াল শুরু করেছেন তৃণমূলের একাংশ। অজিত অবশ্য এদিন নিজের শপথ নেওয়ার ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে লিখেছেন, “আজ আমি শপথ নিলাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একনিষ্ঠ সৈনিক হিসেবে মাথা নত করে সমস্ত পরিষেবা দেব।”



