দিল্লির আকাশে সুখোই-রাফালের সুরক্ষায় হাজার কেজি মুরগির মাংস! সাধারণতন্ত্র দিবসে অভিনব কৌশল
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে অভিনব পরিকল্পনা নিয়েছে দিল্লি সরকার। এই উদ্দেশ্যে মোট ১২৭৫ কেজি হাড়বিহীন মুরগির মাংস কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই এ জন্য একটি স্বল্পমেয়াদি দরপত্র জারি করা হয়েছে। নথি অনুযায়ী, ২০ থেকে ৩০ গ্রাম ওজনের টুকরো করে পাঁচ কেজির প্যাকেটে মাংস সরবরাহ করতে হবে। প্রতিদিন সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে ৩৪ থেকে ৫১টি প্যাকেট দিতে হবে। বিষয়টি শুনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের সঙ্গে মুরগির মাংসের যোগ কোথায়?
২০২৬ সালের সাধারণতন্ত্র দিবসেও অন্যান্য বছরের মতোই ভারতীয় সেনার যুদ্ধবিমানের বিমান প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। সেই প্রদর্শনী দেখতে দেশ-বিদেশের বহু বিশিষ্ট অতিথি উপস্থিত থাকবেন। প্রদর্শনী নিখুঁত ও নিরাপদ করতে আগেভাগেই শুরু হবে মহড়া। সেই কারণেই আকাশপথ সুরক্ষিত রাখতে এক বিশেষ কৌশল অবলম্বন করছে প্রশাসন। ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমানের ওড়ার পথে যাতে কোনও পাখি বাধা সৃষ্টি না করে, তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দিল্লির আকাশে চিল ও বাজের মতো বড় পাখি যুদ্ধবিমানের জন্য বড়সড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিমানের সঙ্গে পাখির সংঘর্ষ ঘটলে মারাত্মক দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে, এমনকি বিপন্ন হতে পারে পাইলটের জীবনও। এই ঝুঁকি এড়াতেই বিপজ্জনক পাখিদের ‘বিপথগামী’ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা হবে প্রায় ১,২৭৫ কেজি হাড়বিহীন মুরগির মাংস।
সাধারণভাবে চিলের মতো পাখি খাবারের সন্ধানে খোলা জায়গায় ঘোরাফেরা করে। সেই প্রবণতাকে কাজে লাগিয়েই প্রতি বছর মাংস ছড়িয়ে তাদের বিমানের উড়ানপথ থেকে দূরে সরানো হয়। এর ফলেই সুরক্ষিত থাকে সুখোই ও রাফালের মতো আধুনিক যুদ্ধবিমান। তবে এ বছর কৌশলে এসেছে সামান্য পরিবর্তন। আগের বছরগুলিতে এই কাজে মোষের মাংস ব্যবহার করা হলেও এবার ‘রেসিপি’ বদলে হাড়বিহীন মুরগির মাংস বেছে নেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, ১৫ জানুয়ারি থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত দিল্লির মোট ২০টি নির্দিষ্ট এলাকায় এই মাংস নিক্ষেপের মহড়া চলবে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় চিলের উপদ্রব বেশি হওয়ায় সেসব অঞ্চলকেই চিহ্নিত করা হয়েছে। টানা প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।
জানা গিয়েছে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ কেজি মাংস পাখিদের জন্য ছোড়া হবে। এর মধ্যে ২২ জানুয়ারি সর্বাধিক ২৫৫ কেজি মাংস ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। বন দপ্তরের আধিকারিকরা মোট ২০টি স্থান নির্ধারণ করেছেন, প্রতিটি জায়গার জন্য বরাদ্দ থাকছে ২০ কেজি করে মাংস। সব মিলিয়ে মোট পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ১২৭৫ কেজি। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এই প্রকল্পে দিল্লি সরকারের খরচ হবে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ টাকা। তবে আধুনিক যুদ্ধবিমান ও সেগুলির চালকদের নিরাপত্তার তুলনায় এই ব্যয়কে নগণ্য বলেই মনে করা হচ্ছে।



