রাজ্য

নেতাজির নামে ‘বিধায়ক সেবা কেন্দ্র’! অনন্ত-বিতর্কে ইতি টানতে শুভেন্দুর মাস্টারস্ট্রোক, মিলবে মাসে ৩০ হাজার

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

নেতাজির নামে ‘বিধায়ক সেবা কেন্দ্র’! অনন্ত-বিতর্কে ইতি টানতে শুভেন্দুর মাস্টারস্ট্রোক, মিলবে মাসে ৩০ হাজার - West Bengal News 24

কোচবিহারের বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজের নেতাজি-সংক্রান্ত বিতর্কিত মন্তব্যের পর ব্যাকফুটে থাকা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মোড় দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিতর্ক এড়াতে এবং দেশনায়ককে সর্বোচ্চ সম্মান জানাতে বিধানসভায় এক যুগান্তকারী ঘোষণা করেছেন তিনি। রাজ্যের সমস্ত বিধানসভায় তৈরি হতে চলা বিধায়ক সেবা কেন্দ্রগুলির নাম রাখা হবে ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবা কেন্দ্র’। শুধু তাই নয়, এই কার্যালয়গুলি পরিচালনার জন্য প্রতি মাসে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে ৩০ হাজার টাকা।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, অনন্ত মহারাজের মন্তব্যের পর বিরোধী শিবিরের আক্রমণের ধার এক ঝটকায় কমিয়ে দিতে এটি শুভেন্দুর এক অভাবনীয় ‘মাস্টারস্ট্রোক’।

আরও পড়ুন :: দেবরাজের ১০০ কোটির সাম্রাজ্য! ৫ বছরে বিপুল সম্পত্তি, ইডি-কে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল পুলিশ

বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারি আর্থিক সাহায্য পেতে হলে বিধায়কদের কয়েকটি কড়া শর্ত মেনে চলতে হবে:

  • নামকরণ: কার্যালয়ের নাম বাধ্যতামূলকভাবে ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবা কেন্দ্র’ রাখতে হবে।

  • ছবি স্থাপন: রাজ্য তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর থেকে নেতাজির ধুতি-পাঞ্জাবি পরিহিত একটি বিশেষ ছবি পাঠানো হবে, যা প্রতিটি অফিসে মর্যাদার সঙ্গে স্থাপন করা আবশ্যক।

  • স্পিকারের নজরদারি: শর্তগুলি সঠিকভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা দেখার দায়িত্ব স্পিকারকে দেওয়া হয়েছে। শর্ত অমান্য করলে কোনো টাকা বরাদ্দ করা হবে না।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী অধিবেশনেই অর্থমন্ত্রীর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি সংশোধনী আনা হবে। তবে আগস্ট মাস থেকেই কার্যকর ধরা হবে এই প্রকল্প। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগের ফলে ২০৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের (নন্দীগ্রাম আসন ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও) সাধারণ মানুষ সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা একটি ছাদের তলা থেকেই খুব সহজে পাবেন।

আরও পড়ুন :: রাজ্যে প্রাক্তন বিধায়কদের পেনশন প্রায় দ্বিগুণ! বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে শুভেন্দুর সরকার

সম্প্রতি অনন্ত মহারাজের নেতাজিকে নিয়ে করা মন্তব্য ঘিরে অস্বস্তিতে পড়েছিল শাসক দল। সেই সুযোগে রাস্তায় নেমে নেতাজির মূর্তিতে মাল্যদান করে রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিরোধীদের সেই ইস্যুকে একেবারে ভোঁতা করে দিল শুভেন্দুর এই মাস্টারস্ট্রোক। নেতাজির আবেগ ও সম্মানকে সামনে রেখে একদিকে যেমন বিতর্ক ধামাচাপা পড়ল, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার এক নতুন দিগন্ত খুলে গেল।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে নেতাজির নামাঙ্কিত এই সেবা কেন্দ্রগুলি কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।

আরও পড়ুন ::

Back to top button