কবে চালু হবে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা’, দিনক্ষণ জানালেন শুভেন্দু অধিকারী
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

ডবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গের মানুষ কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর সুবিধা পেতে চলেছেন। স্বাধীনতা দিবসের পরের দিন, অর্থাৎ ১৬ আগস্ট রাজ্যে পালিত হবে আয়ুষ্মান দিবস। ওইদিন নেতাজি ইন্ডোরে স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি রবিবার থেকেই উপভোক্তাদের হাতে কেন্দ্রীয় ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের কার্ড তুলে দেওয়ার কাজ শুরু হবে। এদিন ‘বিভাজন বিভীষিকা’ স্মরণ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, যারা আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্যবিমার আওতায় পড়ছেন না, তাঁদের জন্য একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পও ওই দিন থেকেই চালু করা হবে।
এতদিন ১৬ আগস্ট তৃণমূল সরকারের ‘খেলা হবে’ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে এসেছে। সেই প্রসঙ্গ তুলে আগের সরকারকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “হিন্দু গণহত্যা দিবসে একদল ফুটবল ছুড়ত, আর আমরা পশ্চিমবঙ্গের ১১ কোটি জনগণের শতায়ু প্রার্থনা করব। অর্থের অভাবে কাউকে যেন পৃথিবী ছেড়ে যেতে না হয়। শুধু রঙের পরিবর্তন হলে হবে না, ব্যবস্থার পরিবর্তনের নজির গড়তে হবে। এই বিষয়ে আমাদের সরকার বদ্ধ পরিকর।”
আরও পড়ুন :: তৃণমূলের মেগা চাল! এনসিপিআই-এর ২০ দলত্যাগী সাংসদের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে কালীঘাট
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা চালুর পাশাপাশি রাজ্যের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পও আপাতত চালু থাকবে। তাঁর বক্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যবাসীর জন্য স্বাস্থ্যসাথীও চালু থাকবে।” তিনি আরও বলেন, “যদি তিন মাস পর দেখা যায় যে স্বাস্থ্যসাথীর তুলনায় বাকি দু’টি যোজনার ব্যাপ্তি বেশি, তাহলে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হবে। প্রত্যেক পরিবারকে বছরে ৫ লক্ষ টাকা ফ্রি চিকিৎসা দেওয়া হবে, কার্ডের জন্য কোনো টাকা লাগবে না, পরিবার যত বড়ই হোক এই সুবিধা দেওয়া হবে।”
আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের পরিষেবা সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আয়ুষ্মান ভারতের পোর্টালে রোগীর সম্পর্কে সব ডিটেলস থাকবে, ফলে ভারতের অন্য কোথাও চিকিৎসা করাতে গেলে কার্ড বা ডকুমেন্টস প্রয়োজন হবে না। ১৫ দিন পর্যন্ত আয়ুষ্মান কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হবে। ১৯৩০ বেসরকারি ও সরকারি হাসপাতালে এই স্কিমে থাকছে। প্রায় ১৩০৩ টি বেসরকারি হাসপাতালে এই প্রকল্প কাজ করবে। সরকারি ৬২৭ হাসপাতালে এই পরিষেবা পাওয়া যাবে।”
রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবায় ডবল ইঞ্জিনের গতি আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত জানিয়েছেন, “৮০ লক্ষ পরিবার মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমাতে অন্তর্ভুক্ত হবে। ৩.৪ কোটি মানুষ ১৬ তারিখ থেকে এই আয়ুষ্মান ভারতের পরিষেবা পাবে। আয়ুষ্মান ভারতের পরিষেবা শুরুর হওয়ার পর আগামী ৩ মাস এই পরিষেবায় কোনও পরিবর্তন করতে পারবে না বেসরকারি হাসপাতালগুলি। এরপর পুনরায় তাদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।”
স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পে অনিয়ম রুখতেও কড়া নজরদারির কথা জানিয়েছেন শারদ্বত। কারচুপি প্রসঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, “আগে একটা অপারেশনের ভাগে ভাগে ৪ টি বিল করা হতো। সেটা যাতে না হয়, তার দিকে নজর দেওয়া হবে। ভারতীয় নাগরিকের বাইরে কোনও বহিরাগত নাগরিক এই প্রকল্প গুলি নিচ্ছেন কিনা, তা দেখার জন্য ফিল্ড ভেরিফিকেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”



