শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তায় চরম সতর্কতা: এবার বুলেটপ্রুফ গাড়িতে কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী! পেছনে কি জইশ চক্রান্ত?
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড়! জঙ্গি নিশানায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী? সম্প্রতি বর্ধমান থেকে ধৃত সন্দেহভাজন জইশ-ই-মোহাম্মদ জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে জেরার পর সামনে এসেছে চরম উদ্বেগজনক তথ্য। জানা গেছে, পাকিস্তান থেকে শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি মুহূর্তের গতিবিধির ওপর নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের পরই মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নেওয়া হলো নজিরবিহীন পদক্ষেপ। রবিবার কাঁথির শান্তিকুঞ্জ থেকে বুলেটপ্রুফ গাড়িতে চড়েই কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্য থেকে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কড়া নজরদারির মাঝে এই বড় পদক্ষেপ ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। আসুন দেখে নেওয়া যাক ঠিক কী কারণে রাতারাতি বদলাতে হলো মুখ্যমন্ত্রীর সুরক্ষাবলয়।
🚨 কেন বুলেটপ্রুফ গাড়ি? জইশ জঙ্গি হামিমের জেরা থেকে কী মিলল?
বেঙ্গল এসটিএফ (STF)-এর হাতে বর্ধমান থেকে গ্রেফতার হওয়া জইশ জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে জেরা করতেই ফাঁস হয় বড় চক্রান্ত। গোয়েন্দা সূত্রে খবর:
পাকিস্তান হ্যান্ডলারদের নজর: সীমান্তের ওপার থেকে পাক হ্যান্ডলাররা মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য চেয়ে পাঠাচ্ছিল।
‘আনগার্ডেড মুভমেন্ট’-এর খোঁজ: মুখ্যমন্ত্রী কখন অরক্ষিত বা কম নিরাপত্তায় চলাফেরা করছেন, সেই সুযোগের সন্ধানে ছিল জঙ্গিরা।
সুরক্ষায় ফাঁক বন্ধ: এতদিন মুখ্যমন্ত্রী যে গাড়িটি ব্যবহার করতেন, তা বুলেটপ্রুফ ছিল না। ফলে থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট (Threat Assessment)-এর পর ঝুঁকি না নিয়ে তৎক্ষণাৎ জ্যামার ও বুলেটপ্রুফ কনভয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা জোরদার করা নিয়ে সম্প্রতি সরব হয়েছিলেন রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যরাও। পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং স্পষ্ট জানান, “বর্তমান পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ে জ্যামার এবং আবশ্যিকভাবে বুলেটপ্রুফ গাড়ি থাকা উচিত।” পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল-ও একই সুর মিলিয়ে বুলেটপ্রুফ গাড়ি ব্যবহারের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছিলেন।
গতকাল কাঁথির বাড়িতে সাধারণ গাড়িতে পৌঁছলেও, মন্ত্রীদের উদ্বেগ ও গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতেই রবিবার সকাল থেকেই কনভয়ে যুক্ত করা হয় নতুন বুলেটপ্রুফ গাড়িটি।
এই নিরাপত্তা বিতর্ক ও জঙ্গি হুমকি প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রীর ভাই তথা এগরার বিজেপি বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারী। তিনি জানান: “বাংলার মানুষ শুভেন্দুবাবুর সঙ্গে রয়েছেন। পরিবারের সদস্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, এসটিএফ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। সফল অভিযানের জন্য রাজ্য পুলিশকে ধন্যবাদ।”
মুখ্যমন্ত্রীর সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে দিব্যেন্দু আবেগঘন বার্তা দিয়ে বলেন— “তিনি চান সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করতে। উন্নয়নের বার্তা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। তার জন্য যদি প্রাণ দিতে হয়, তবে আমরা তাও দিতে তৈরি।”
বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় একদিকে যেমন রাজ্য পুলিশ ও এসটিএফ রয়েছে, তেমনই রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া প্রচ্ছায়া। তবে জইশ হুমকির মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো ফাঁক রাখতে চাইছে না এসএসবি ও স্পেশাল সিকিউরিটি গ্রুপ। আগামী দিনে তাঁর জনসংযোগের কর্মসূচিতেও কিছু কাটছাঁট বা বাড়তি নিরাপত্তার কড়াকড়ি দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



