
হেলথ পয়েন্টের পর এবার কলকাতার আরও ছয়টি নামী ব্লাড ব্যাঙ্ক চরম বিপাকে। অবৈধভাবে ভিনরাজ্যে রক্ত ও প্লাজমা পাচারের মতো স্পর্শকাতর অভিযোগে রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল ও স্বাস্থ্য ভবনের যৌথ নজরদারিতে তোলপাড় রাজ্য স্বাস্থ্যমহল।
অভিযোগের তির কোন ৬টি ব্লাড ব্যাঙ্কের দিকে?
রাজ্য ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিলের (WB SBTC) লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্ত ব্লাড ব্যাঙ্কগুলির তালিকায় রয়েছে:
অশোক ব্লাড ব্যাঙ্ক (যোধপুর পার্ক)
ইস্পাত কো-অপারেটিভ হাসপাতাল ব্লাড সেন্টার (সোনারপুর)
ওম ব্লাড সেন্টার (বেলেঘাটা)
কোঠারি মেডিক্যাল ব্লাড সেন্টার (আলিপুর)
পিপলস ব্লাড ব্যাঙ্ক (হাজরা)
লাইফ কেয়ার (এন্টালি)
আরও পড়ুন :: ২ হাজার টাকার বেশি ইউপিআই পেমেন্টে বসতে পারে অতিরিক্ত চার্জ! কেন্দ্রের নতুন প্রস্তাব ঘিরে জল্পনা
কী কী গাফিলতি ও বেনিয়ম ধরা পড়েছে?
প্রাথমিক তদন্ত ও স্বাস্থ্য ভবনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে:
অবৈধ রক্ত ও প্লাজমা পাচার: রাজ্য বা কেন্দ্রের আগাম অনুমতি ছাড়া মোটা টাকার বিনিময়ে লোহিত রক্তকণিকা (RBC) ও প্লাজমা ভিনরাজ্যে পাঠানো হচ্ছিল।
প্রক্রিয়াগত গাফিলতি: রক্ত সংগ্রহ, নিরাপদ তাপমাত্রা ও নির্দিষ্ট নিয়মে মজুত রাখা এবং পরিবহনের ক্ষেত্রে চরম গাফিলতি দেখা গিয়েছে।
অননুমোদিত শিবির পরিচালনা: নিয়মবহির্ভূতভাবে বাইরে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে রক্ত সংগ্রহ করার প্রমাণ মিলেছে।
স্বাস্থ্য ভবনের কড়া পদক্ষেপ ও নতুন নির্দেশিকা
রক্তের কালোবাজারি ও অসাধু কারবার রুখতে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর এবং ড্রাগ কন্ট্রোল কঠোর অবস্থান নিয়েছে:
| পদক্ষেপের ক্ষেত্র | গৃহীত ব্যবস্থা ও নতুন নিয়মাবলী |
| ১১টি ব্লাড ব্যাঙ্কের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা | অভিযুক্ত ব্লাড ব্যাঙ্কগুলি আপাতত বাইরে কোনও রক্তদান শিবিরের আয়োজন করতে পারবে না। |
| অভ্যন্তরীণ পরিষেবা চালু | নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রশিক্ষিত কর্মীদের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিধি মেনে রক্ত সংগ্রহ ও স্বাভাবিক লেনদেন চালানো যাবে। |
| স্থানান্তরের কড়া নিয়ম | রাজ্য বা কেন্দ্র সরকারের আগাম লিখিত অনুমোদন ছাড়া বিপুল পরিমাণ রক্ত বা প্লাজমা বিক্রি বা অন্য কোথাও পাঠানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। |
| আইনি হুঁশিয়ারি | সরকারি বা বেসরকারি—যেকোনো ব্লাড ব্যাঙ্ক নতুন গাইডলাইন অমান্য করলে সরাসরি ড্রাগ অ্যাক্ট অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিল ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। |
হেলথ পয়েন্টের লাইসেন্স বাতিলের পর এই ৬টি ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তদন্তের গতি বাড়ায় রাজ্যজুড়ে রক্তের কালোবাজারি চক্র ভেঙে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছে স্বাস্থ্য দফতর।



