
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাজ্য সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও পুর-পঞ্চায়েত কর্মচারীদের জন্য এল বড় সুখবর। রোপা ২০০৯ (ROPA 2009) অনুযায়ী আটকে থাকা দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) দ্রুত মেটাতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করল রাজ্য সরকার। অর্থ দপ্তরের নির্দেশ মেনে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র বিল প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে।
কারা পাবেন এই বকেয়া ডিএ-র সুবিধা?
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আগেই মূল সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিএ-র একটি অংশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সাহায্যপ্রাপ্ত সংস্থার কর্মীরা এতদিন এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। নতুন নির্দেশে সরাসরি উপকৃত হবেন:
স্কুল শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী: সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত ও সাহায্যপ্রাপ্ত (Grant-in-Aid) স্কুলের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীবৃন্দ।
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন কর্মী: পঞ্চায়েত ও পুরসভার অধীনে কর্মরত স্থায়ী কর্মীবৃন্দ।
অন্যান্য সংস্থা: রাজ্যের বিভিন্ন বিধিবদ্ধ বোর্ড, কর্পোরেশন ও অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থার কর্মচারীরা।
আরও পড়ুন :: কলকাতার আরও ৬ ব্লাড ব্যাঙ্কে বিরাট বেনিয়ম! ভিনরাজ্যে রক্ত পাচারের অভিযোগে তদন্তে ড্রাগ কন্ট্রোল
১৫ দিনের ডেডলাইন ও পোর্টালে বিশেষ কড়াকড়ি
অর্থ দপ্তর সূত্রের খবর, দ্রুত হিসাব মেটাতে প্রশাসনিক স্তরে বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। প্রক্রিয়াটি নিটোল ও দ্রুত রাখতে যে পদক্ষেপগুলি নেওয়া হয়েছে:
নির্দিষ্ট পোর্টালে বিল জমা: আইটি কর্মীদের স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ দিন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক পোর্টালগুলিতে অন্য কোনো বকেয়া আর্থিক বিল জমা নেওয়া হবে না।
প্রাধান্য পাচ্ছে DA: আপাতত অন্য সব বকেয়া আর্থিক ফাইল সরিয়ে রেখে শুধুমাত্র এই মহার্ঘ ভাতার বিল তৈরিতেই পূর্ণ মনোযোগ দিতে বলা হয়েছে।
কোষাগার থেকে সরাসরি অনুমোদন: রোপা ২০০৯ নিয়ম মেনে হিসাব কষে দ্রুত অর্থ বরাদ্দের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।
সরকারি কোষাগার থেকে যাঁরা সরাসরি বেতন পান না, অথচ সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভরশীল—এমন লাখ লাখ কর্মীর বকেয়া মেটানো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা চলছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর প্রভিডেন্ট ফান্ড ও ব্যাংকের মাধ্যমে সাধারণ সরকারি কর্মীদের একটি অংশ টাকা পেলেও অনুদানপ্রাপ্ত কর্মচারীদের দাবি ঝুলে ছিল। সরকারের এই পদক্ষেপে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রশমিত হতে চলেছে বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল।



