SCO Summit: পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক মোদীর, হরমুজ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা
ওয়েবডেস্ক

বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (SCO) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পশ্চিম এশিয়ার চলমান পরিস্থিতির পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌ ও বাণিজ্যিক চলাচল এবং ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার মতো বিষয় এই বৈঠকের প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
কী ঘটল বিশকেকে?
৩১ আগস্ট ২০২৬, সোমবার কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে বসেছে SCO-র ২৬তম শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনের ফাঁকেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। এটি পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে ভারত-ইরান উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব।
মোদীর এই বৈঠকের গুরুত্ব আরও বেড়েছে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে পরিস্থিতির কারণে। ওই জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতার প্রভাব ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক স্বার্থেও পড়তে পারে।
পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কী নিয়ে আলোচনা?
প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব পেয়েছে। ভারত বরাবরই বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাতের ক্ষেত্রে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ও বাণিজ্যের নিরাপত্তাও ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ ওই অঞ্চলের অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহণ খরচ এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগে তার প্রভাব পড়তে পারে। বৈঠকের আলোচনায় তাই জ্বালানি নিরাপত্তা ও নৌ চলাচলের স্বাধীনতার বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে বলে একাধিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতীয় নাগরিক ও নাবিকদের নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের আবহে বিদেশে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নয়াদিল্লির অন্যতম অগ্রাধিকার। সংঘাতপ্রবণ এলাকায় ভারতীয় নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলির নিরাপদ চলাচল নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ ভারতের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে চাবাহার বন্দরকে ঘিরে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও বাণিজ্যিক স্বার্থও ভারত-ইরান সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠক?
ভারত ও ইরানের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক যোগাযোগে সীমাবদ্ধ নয়। মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ, চাবাহার বন্দর এবং আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহণ করিডরের মতো বিষয়গুলির ক্ষেত্রেও ইরান গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
বর্তমান পশ্চিম এশিয়া পরিস্থিতিতে সেই কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বিশেষ করে সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও জ্বালানি আমদানি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে ভারতের জন্য বিকল্প যোগাযোগপথ এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
পুতিনের সঙ্গে মোদীর বৈঠক কবে?
SCO সম্মেলনের ফাঁকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী মোদীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক আগেই জানিয়েছিল, বিশকেক সফরে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মোদীর বৈঠক হবে।
তবে ৩১ আগস্ট ২০২৬ বিকেল পর্যন্ত পাওয়া নির্ভরযোগ্য রিপোর্টে পুতিন-মোদী বৈঠকটি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে—এমন নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই এই প্রতিবেদনে সেই বৈঠক হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে না।
দুই দেশের সম্ভাব্য আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বাণিজ্য ঘাটতি, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি গুরুত্ব পেতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত-রাশিয়া বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যদিও বাণিজ্য ভারসাম্য রাশিয়ার দিকে অনেকটাই ঝুঁকে রয়েছে।
SCO সম্মেলনের মূল গুরুত্ব কী?
২০২৬ সালের SCO শীর্ষ সম্মেলন ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর বিশকেকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের সম্মেলন সংগঠনের ২৫ বছর পূর্তির আবহে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন, বাণিজ্য, জ্বালানি, পরিবহণ সংযোগ ও ডিজিটাল সহযোগিতার মতো বিষয় আলোচনায় রয়েছে।
চীন, রাশিয়া, ভারত, ইরান, পাকিস্তান-সহ SCO-র সদস্য দেশগুলির শীর্ষ নেতৃত্ব এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের বিষয়গুলিও সম্মেলনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভারতের জন্য এর অর্থ কী?
বিশকেক সফরে মোদীর একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ভারতের ‘বহুমুখী কূটনীতি’র গুরুত্ব তুলে ধরছে। একদিকে ইরানের সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে যোগাযোগ, অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক—দুই ক্ষেত্রেই ভারত নিজের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়লে ভারতের জ্বালানি আমদানি এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর তার সম্ভাব্য প্রভাব নজরে রাখতে হবে। ফলে পেজেশকিয়ানের সঙ্গে মোদীর বৈঠক শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয় নয়; এর সঙ্গে ভারতের বৃহত্তর জ্বালানি ও বাণিজ্যিক নিরাপত্তার প্রশ্নও জড়িত।
এরপর কী?
SCO শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে সদস্য দেশগুলির শীর্ষ নেতারা আনুষ্ঠানিক আলোচনায় অংশ নেবেন। আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং চলমান আন্তর্জাতিক সংঘাতের মতো বিষয় সামনে থাকবে।
এর পাশাপাশি মোদীর অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও ভারতের আঞ্চলিক কূটনীতির পরবর্তী দিক নির্দেশ করতে পারে। বিশেষ নজর থাকবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকের দিকে।
প্রকাশনা নোট: এই প্রতিবেদনের সর্বশেষ তথ্য ৩১ আগস্ট ২০২৬ বিকেল পর্যন্ত যাচাই করা হয়েছে। পুতিন-মোদী বৈঠক সম্পন্ন হলে পরবর্তী আপডেটে বৈঠকের বিষয়বস্তু যোগ করা উচিত।
FAQ
১. মোদী ও পেজেশকিয়ানের বৈঠক কোথায় হয়েছে?
কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে SCO শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তাঁদের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছে।
২. মোদী-পেজেশকিয়ান বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে?
পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা, হরমুজ প্রণালী এবং নৌ ও বাণিজ্যিক চলাচলের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট ছিল।
৩. হরমুজ প্রণালী ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বাণিজ্যিক পরিবহণের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। ওই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
৪. মোদী কি পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন?
৩১ আগস্ট ২০২৬ বিকেল পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য রিপোর্টে পুতিনের সঙ্গে মোদীর বৈঠক নির্ধারিত থাকার কথা নিশ্চিত হয়েছে; বৈঠকটি ইতিমধ্যে হয়ে গেছে বলে নিশ্চিত তথ্য তখনও পাওয়া যায়নি।
৫. ২০২৬ সালের SCO সম্মেলন কোথায় হচ্ছে?
কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ SCO শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।



