আলাদা রাষ্ট্রের ঘোষণা! বাংলাদেশের পর এবার কি ভাঙতে চলেছে পাকিস্তান? ১১ আগস্ট বড় চমক
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

বাংলাদেশের পর এবার কি ফের পাকিস্তান বিভক্ত হতে চলেছে? বালোচ লিবারেশন আর্মি (BLA) আগামী ১১ আগস্টকে বালোচিস্তানের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দেওয়ায় বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। পাক সেনার দমন-পীড়ন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ লুটের বিরুদ্ধে এবার চূড়ান্ত লড়াইয়ের ডাক বালোচ জনতার।
১১ আগস্ট কেন বেছে নেওয়া হলো বালোচিস্তানের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে? ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, ১৯৪৭ সালের ১১ আগস্ট ব্রিটিশদের থেকে মুক্ত হয়ে বালোচিস্তান নিজেকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেছিল। তখনো ভারত বা পাকিস্তানের জন্ম হয়নি (১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা লাভ)। কিন্তু পরবর্তীকালে পাকিস্তান জোরপূর্বক বালোচিস্তান দখল করে নেয়। সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করেই বালোচ লিবারেশন আর্মি (BLA) ১১ আগস্ট দিনটিকে ‘স্বাধীনতার দিন’ হিসেবে পালনের নির্দেশ দিয়েছে।
মির ইয়ার বালচের বার্তা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আর্জি বালোচ নেতা মির ইয়ার বালচ বিশ্ববাসীর কাছে বালোচিস্তানের স্বাধীনতা সংগ্রামকে সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন।
পতাকা উত্তোলনের নির্দেশ: ১১ আগস্ট প্রতিটি বাড়িতে, বাজারে এবং জনবহুল স্থানে ‘রিপাবলিক অফ বালোচিস্তানের’ পতাকা উত্তোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসী বালোচদের ভূমিকা: বিদেশে বসবাসকারী বালোচদেরও এই বিশেষ দিনটি ধুমধাম করে উদযাপনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তোপ: মিরের অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার শুধু নিজ দেশের অভ্যন্তরেই নয়, বরং সমগ্র অঞ্চলে হিংসা ছড়িয়েছে। সামরিক অভিযান, গুমখুন ও পারমাণবিক পরীক্ষার নামে বালোচিস্তানের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে Islamabad।
কেন অগ্নিগর্ভ বালোচিস্তান? সিপেক (CPEC) ও সম্পদ লুট বালোচিস্তান খনিজ সম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ হলেও, সেখানে স্থানীয় জনগণ চরম দারিদ্র্যের শিকার। চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (CPEC) তৈরি হওয়ার পর থেকে এই শোষণ আরও তীব্র হয়েছে। অভিযোগ, বালোচিস্তানের সম্পদ চিন ও পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার মিলে লুট করছে, অথচ প্রতিদানে স্থানীয় বালোচরা পাচ্ছে কেবল নির্যাতন, ধর্ষণ ও সেনা অত্যাচার।
৭১-এর বাংলাদেশ বিভাজনের পুনরাবৃত্তি? ১৯৭১ সালে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) যেভাবে পাক সেনার অমানুষিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিয়েছিল, বালোচিস্তানেও আজ একই ছবি। বালোচ লিবারেশন আর্মির ক্রমাগত গেরিলা হামলার মুখে পাক সেনা ব্যাকফুটে। যদি বালোচিস্তান সত্যি স্বাধীন হয়ে যায়, তবে ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে পাকিস্তান তার বৃহত্তম ভূখণ্ড হারাবে—যা ইসলামাবাদের জন্য সবচেয়ে বড় ভূ-রাজনৈতিক ধাক্কা হতে চলেছে।



