ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রত্যেক ভারতীয়ই ভ্যাকসিন পাবেন : কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখওয়াত

দেশে অব্যাহত মারণ করোনার ছোবল। সংক্রমণ রুখতে ভ্যাকসিন (Vaccines) প্রদানের কাজ শুরু হলেও তার গতি অত্যন্ত ধীর। যদিও এই অবস্থায় আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সমস্ত ভারতীয় নাগরিকদের টিকা দেওয়ার কাজ শেষ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখওয়াত (Gajendra Singh Shekhawat)।
এছাড়াও করোনার টিকা নিয়ে বিরোধীদের রাজনীতি করার দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। এদিন তিনি বলেন, “ভ্যাকসিনের দ্রুত উৎপাদন বাড়ানোর জন্য আমরা সবরকম ভাবে চেষ্টা চালাচ্ছি। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই সকল দেশবাসী এই করোনার টিকা পাবেন। ডিসেম্বরের মধ্যেই সবাইকে টিকা দিয়ে রেকর্ড গড়বে ভারত।” তিনি বলেন, “এই প্রথম সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে দেশে কোনও ভ্যাকসিন তৈরি হচ্ছে। এর আগে কোনও ভ্যাকসিন আবিস্কারের পর তা ভারতে আসতে বহু সময় লেগে যেত।”
শুধু তাই নয়, বিরোধীদের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য বিরোধীরা করোনা সংক্রমণ ও টিকাকরণ নিয়েও রাজনীতি করছেন এবং দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে। এ দিকে, তাঁরা নিজেরাই টিকা নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। বিরোধীদের উচিত ক্ষমা চাওয়া।”
করোনা চিকিৎসায় রিমডেসিভির ও ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত অ্যামফোটেরিসিন-বি (amphotericin-B) ওষুধের ঘাটতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “ইতিমধ্যেই রিমদেসিভিরের(remdesivir) উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে প্রতিমাসে প্রায় দেড় কোটি রেমডেসিভির উৎপন্ন করা হচ্ছে। অ্যামফোটেরিসিন-বি-র উৎপাদনও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। আগামী মাসের মধ্যেই উৎপাদনের ঘাটতি মিটে যাবে।
এছাড়াও করোনার টিকাকরণ ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরিষেবার উপর জোর দিতে গ্রামীন এলাকায় কমিউনিটি হেলথ সেন্টার(CHC) খোলার ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এদিন তিনি জানান,আগামী ৩ মাসের মধ্যে ১৫ কোটি টাকা ব্যায়ে এইরকম ৩০ টি কমিউনিটি হেলথ সেন্টার খোলা হবে।
অন্যদিকে, সোমবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের (Health Ministry) দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় গোটা দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ লক্ষ ২২ হাজার ৩১৫ জন। রবিবারের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা এদিন অনেকটাই কম। রবিবার ২ লক্ষ ৪০ হাজার ৮৪২ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে মৃতের সংখ্যা। রবিবার যেখানে ৩ হাজার ৭৪১ জনের মৃত্যু হয়েছিল সেখানে সোমবারের রিপোর্ট বলছে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ হাজার ৪৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অর্থাৎ এদিন ফের মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ৪ হাজার। প্রায় ছুঁয়ে ফেলল সাড়ে ৪ হাজারের গণ্ডি। গতকালের চেয়ে এদিন সুস্থতার হার অনেকটাই কমেছে। রবিবার ৩ লক্ষ ৫৫ হাজার ১০২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন। আর সোমবার সুস্থ হয়েছেন ৩ লক্ষ ২ হাজার ৫৪৪ জন। তবে স্বস্তির কথা দৈনিক আক্রান্তের থেকে এদিনও সুস্থতার সংখ্যা বেশি।
সূত্র: কলকাতা ২৪*৭



