জাতীয়

গত তিন বছরে বিহারে তফসিলী জাতি-উপজাতির কোনো স্কলারশিপ দেয়া হয়নি

গত তিন বছরে বিহারে তফসিলী জাতি-উপজাতির কোনো স্কলারশিপ দেয়া হয়নি - West Bengal News 24

বিহারে মোট জনসংখ্যার ১৬ শতাংশ তফসিলী জাতি। এক শতাংশ তফসিলী উপজাতি। রাজ্যে মোট পাঁচ লক্ষ তফসিলী জাতি-উপজাতির ছাত্রছাত্রী প্রতি বছর কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প অনুযায়ী স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু গত তিন বছরে বিহার সরকারের কাছে স্কলারশিপের একটিও আবেদন জমা পড়েনি। বিহার প্রশাসনের অফিসাররা বলছেন, ন্যাশনাল স্কলারশিপ পোর্টালে কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা হয়েছে। কিন্তু তিন বছরেও কেন সেই সমস্যা দূর করা গেল না, তার সদুত্তর মেলেনি।

রাজ্য সরকার অবশ্য আশ্বাস দিয়েছে, শীঘ্র ওই প্রকল্প ফের চালু করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের ওই পোস্ট ম্যাট্রিক স্কলারশিপে সারা দেশে মোট ৬০ লক্ষ তফসিলী জাতি-উপজাতির ছাত্রছাত্রী উপকৃত হন। যে তফসিলী জাতি-উপজাতি পরিবারগুলির বাত্‍সরিক আয় আড়াই লক্ষ টাকার কম, তাদের ছেলেমেয়েরা ওই বৃত্তি পাওয়ার উপযুক্ত বলে বিবেচিত হন। ওই প্রকল্পের ৭৫ শতাংশ টাকা দেয় কেন্দ্রীয় সরকার।

২৫ শতাংশ দেয় রাজ্য সরকার। ২০১৫-১৬ সালে বিহার সরকার ওই প্রকল্পে ১ লক্ষ ৫৫ হাজার ছাত্রকে বৃত্তি দিয়েছিল। কিন্তু ২০১৬-১৭ সালে বৃত্তি প্রাপকের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৩৭ হাজার ৩৭২। ২০১৭-১৮ সালে ওই বৃত্তি পান ৭০ হাজার ৮৮৬ জন। ২০১৮-১৯ সালে পান ৩৯ হাজার ৭৯২ জন। ২০১৭-১৮ এবং ২০১৯-২০ সালে বিহার সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে ওই প্রকল্পের টাকা পায়নি। কারণ রাজ্য নিজে ওই প্রকল্পে নির্ধারিত অর্থ দেয়নি।

গত তিনবছর বিহারে ওই প্রকল্প কার্যত বন্ধই হয়ে আছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে পাটনা হাইকোর্টে জনস্বার্থের মামলা করেন রাজীব কুমার নামে এক ব্যক্তি। সমস্তিপুরের বাসিন্দা রাজীব প্রশ্ন তোলেন, বিহারে ওই প্রকল্প বন্ধ রয়েছে কেন? বন্ধ হওয়ার কারণ হিসাবে পোর্টালে টেকনিক্যাল সমস্যার কথা বলা হচ্ছে কেন? রাজীব কুমারের কৌঁসুলি অলকা বর্মা বলেন, বিহার সরকার ইচ্ছা করে ওই প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছে। তারা ওই প্রকল্পের পিছনে টাকা খরচ করতে চায় না।

বিহারের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব (শিক্ষা) সঞ্জয় কুমার বলেন, ‘ওই প্রকল্প রূপায়নে অবশ্যই দেরি হয়েছে। কারণ ন্যাশনাল স্কলারশিপ পোর্টালে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমরা ওই পোর্টালের জন্য সিঙ্গল উইন্ডোর ব্যবস্থা করেছিলাম। আমরা চাইছি একটি অন্য সাইটের মাধ্যমে স্কলারশিপের প্রকল্প চালাতে। কিন্তু ওই প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ভাবা ঠিক নয়।’

সূত্র : দ্য ওয়াল

আরও পড়ুন ::

Back to top button