
দীর্ঘ প্রায় দু’দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় কলকাতার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র রবীন্দ্রসদনে বিশিষ্ট লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে স্বাগত জানালেন শহরের মানুষ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি ও স্বাগত ভাষণে সেই অনুষ্ঠান আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। লেখিকার উদ্দেশে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান বলেন, ”সুরক্ষিত পশ্চিমবঙ্গে আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রী। আপনি যতবার ইচ্ছা, যখন ইচ্ছা আসবেন, কথা বলবেন। শৃঙ্খলমুক্ত, বাঁধনমুক্ত পশ্চিমবঙ্গে সবার আসার, বাক স্বাধীনতার সুযোগ আছে। ধমক-চমক অতীত। আজ প্রমাণিত, নতুন সরকারের হাতে বাংলার গণতন্ত্র, সংবিধান, মৌলিক অধিকার, বাক স্বাধীনতা সুরক্ষিত।”
সেকুলার মিশনের উদ্যোগে আয়োজিত তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় ‘ফেরা’ উপলক্ষে রবীন্দ্রসদনে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শনিবার বিকেল থেকেই এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক মহলে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। লেখিকার নিরাপত্তায় নেওয়া হয়েছিল নজিরবিহীন ব্যবস্থা।
সন্ধ্যায় তসলিমা রবীন্দ্রসদনে পৌঁছতেই তাঁকে ঘিরে উপস্থিত মানুষের আবেগ ও উচ্ছ্বাস স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তুঁতে রঙের বালুচরী শাড়ি এবং লাল টিপে সজ্জিত লেখিকার মুখেও ধরা পড়ে স্বস্তি ও প্রশান্তি। কিছুক্ষণ পরে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মঞ্চে লেখিকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী। তসলিমাকে দেওয়া হয় নাগরিক সংবর্ধনাও। অনুষ্ঠানে সাহিত্যসম্রাট ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি ছবি তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ‘দ্বিখণ্ডিত’ স্রষ্টার প্রতিকৃতি খোদাই করা একটি রুপোর পদক নাগরিকদের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে তসলিমা নাসরিনের হাতে তুলে দেন শুভেন্দু অধিকারী।



