
দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল। মঙ্গলবার রাজধানীতে একের পর এক রাজনৈতিক বৈঠকের পর এই বৈঠক ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে বাংলার রাজনীতির সমীকরণ কোন পথে এগোবে, সেই রূপরেখা কি দিল্লিতেই তৈরি হচ্ছে উঠছে সেই প্রশ্ন।
এদিন সকালে এনডিএ-র বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবির থেকে এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়া সাংসদেরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে প্রথম সারিতে বসতে দেখা যায় সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। তবে এনসিপিআইয়ের তিন সংখ্যালঘু সাংসদ ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না।
এনডিএ-র বৈঠক শেষ হওয়ার পর এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর কিছুক্ষণ পরেই দিল্লিতে শমীক ভট্টাচার্যের বাসভবনে জরুরি বৈঠকে যোগ দেন শুভেন্দু এবং সুনীল বনসল। এই বৈঠকের বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে না এলেও রাজনৈতিক মহলে তা নিয়ে প্রবল কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন :: আগস্টে অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি ৩০০০ টাকা? অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন কারা?
তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের পৃথক রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিসেবে আত্মপ্রকাশের নেপথ্যে সুনীল বনসলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি। কাকলি ঘোষ দস্তিদার, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বিক্ষুব্ধ সাংসদেরা তাঁর বাসভবনেই বৈঠক করে তৃণমূল ছেড়ে সম্মিলিতভাবে এনসিপিআইয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
ফলে রাজ্য বিজেপির দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে সুনীল বনসলের বৈঠকে এনসিপিআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হওয়াই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। এনসিপিআই নিজেদের পৃথক দল হিসেবে ঘোষণা করলেও লোকসভার স্পিকার এখনও তাদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি দেননি। আপাতত তৃণমূলের একটি পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে তাদের বসার জায়গা পরিবর্তন করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্দিষ্ট সাংগঠনিক কাঠামো না থাকা এনসিপিআইয়ে একসঙ্গে ২০ জন সাংসদের যোগদান কতটা আইনসঙ্গত, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদদের সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়ানো সম্ভব কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে বলে খবর। সেই কারণে শমীক-শুভেন্দু-বনসলের এই বৈঠক এনসিপিআই সাংসদদের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।
তবে বৈঠকের আলোচনা শুধু এনসিপিআইকে ঘিরেই সীমাবদ্ধ থাকবে, এমনটা মনে করছেন না বিজেপির অন্দরমহলের একাংশ। রাজ্যজুড়ে বিজেপির তৃণমূল স্তরের সংগঠনে বড় ধরনের রদবদল বা ঝাঁকুনি দেওয়ার পরিকল্পনাও আলোচনায় থাকতে পারে।
সম্প্রতি দলের নিচুতলায় অবাঞ্ছিত লোকজনের প্রবেশ, সংগঠনের তৃণমূলীকরণ এবং কিছু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতা, শৃঙ্খলা এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়েও তিন নেতার মধ্যে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়াও সামনে পুরসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনে কাদের প্রার্থী করা হবে, কোন নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হবে এবং কাদের বাদ দেওয়া হতে পারে সেসব বিষয়ও দিল্লির বৈঠকে উঠে আসতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



