ভারতে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম চালানো কঠিন হবে? মোদির ভিডিও সরানোয় মেটার আইনি রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের হুঁশিয়ারি কেন্দ্রের
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও মুছে ফেলার ঘটনায় মেটা কর্তা মার্ক জুকারবার্গকে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। তা না হলে ভারতে সংস্থাটি যে আইনি সুরক্ষা পায়, তা প্রত্যাহার করা হতে পারে। বুধবার কেন্দ্রের তরফে মেটাকে এমনই চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এর আগে ইনস্টাগ্রাম থেকে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও সরানোর বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইতে মেটার গ্লোবাল পলিসি হেডকে তলব করেছিল কেন্দ্র। এরপরই সংস্থাটিকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।
জেন-জি পড়ুয়াদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তৈরি ভাইরাল সেলফি ভিডিওটি ফেসবুক থেকে উধাও হয়ে যাওয়ার পর দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়। ভিডিও সরানোর জন্য ক্ষমাও চায় মেটা। তবে সোমবার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় কমিটির বৈঠকের পর কমিটির প্রধান নিশিকান্ত দুবে জানিয়ে দেন, এই ঘটনায় ‘মেটা’র ক্ষমা প্রার্থনাই যথেষ্ট নয়। ঘটনার দায় স্বীকার করার পাশাপাশি সংস্থাটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি জানান। ভিডিওটি মুছে ফেলার পর মেটা ক্ষমা চাইলেও তাতে কেন্দ্র সন্তুষ্ট হয়নি।
আরও পড়ুন :: অগস্টের শুরুতেই বিরাট স্বস্তি! এলপিজি সিলিন্ডারের দামে বড় চমক, কলকাতায় দর কত?
নিশিকান্তর কথায়, ১৪০ কোটি মানুষের প্রতিনিধি আমাদের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর পোস্ট করা ভিডিও সরিয়ে দেওয়া মানে গণতন্ত্রের উপর আক্রমণ করা। যারা এই ভিডিও সরিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করতে হবে মেটাকে। ক্ষমা চাইতে হবে মার্ক জুকারবার্গকে। যদি এগুলো না হয় তাহলে সেফ হারবার ক্লজ কেড়ে নেওয়া হবে মেটার থেকে। মামলাও দায়ের হবে মেটার বিরুদ্ধে। আপাতত কেন্দ্রের তরফ থেকে মেটাকে তিনদিন সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে জুকারবার্গ ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা না চাইলে কেড়ে নেওয়া হতে পারে সেফ হারবার ক্লজ।
কিন্তু এই সেফ হারবার ক্লজ আসলে কী? তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯ ধারা অনুযায়ী, মেটার মতো মধ্যস্থতাকারী সংস্থাগুলি নির্দিষ্ট কিছু আইনি সুরক্ষা পায়। কোনও তৃতীয় পক্ষ বা ব্যবহারকারী প্ল্যাটফর্মে কন্টেন্ট পোস্ট করলে সাধারণভাবে তার জন্য সরাসরি আইনি দায় সংস্থাটির উপর বর্তায় না। অর্থাৎ, ব্যবহারকারীর কোনও পোস্ট নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হলেও তার দায় সরাসরি মেটার উপর এসে পড়ে না।
কেন্দ্র এই আইনি রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করলে ভারতে ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের মতো সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করা মেটার পক্ষে অনেক বেশি জটিল হয়ে উঠতে পারে। প্রতিটি বিতর্কিত বা বেআইনি কন্টেন্টের জন্য সংস্থাকে সরাসরি আইনি দায়ের মুখে পড়তে হতে পারে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এই সংঘাত আরও বাড়লে ভারতে জনপ্রিয় এই সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির পরিষেবা কি কোনওভাবে প্রভাবিত হতে পারে?



