রাজনীতিরাজ্য

নেতাজির আদর্শকে সামনে রেখে ‘আজাদ হিন্দ পার্টি’, জেন জি-কে মূল শক্তি, মেন্টর হতে পারেন প্রপৌত্র চন্দ্র বসু

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

নেতাজির আদর্শকে সামনে রেখে ‘আজাদ হিন্দ পার্টি’, জেন জি-কে মূল শক্তি, মেন্টর হতে পারেন প্রপৌত্র চন্দ্র বসু - West Bengal News 24

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। জেন জি-কে দলের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে রেখে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে ‘আজাদ হিন্দ পার্টি’। এই নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগের মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন নেতাজির প্রপৌত্র চন্দ্র বসু। ১৯৪৩ সালের ২১ অক্টোবর সিঙ্গাপুরে নেতাজি প্রথম ‘আজাদ হিন্দ সরকার’ গঠনের ঘোষণা করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক দিনটিকেই নতুন দলের পথচলার সূচনা হিসেবে বেছে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চন্দ্র বসু।

নেতাজির জন্মস্থান কটক থেকেই নতুন রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সম্ভবত দলের প্রথম কর্মসূচিও সেখানেই অনুষ্ঠিত হবে। চন্দ্র বসুর পাশাপাশি নেতাজির আদর্শে অনুপ্রাণিত একাধিক ব্যক্তি, গবেষক এবং নেতাজি-প্রেমী গোষ্ঠী এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর সাংগঠনিক কাজকর্ম থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও জেন জি-র ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন চন্দ্র বসু। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে দল ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন তিনি। এর আগে ফরওয়ার্ড ব্লকের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন চন্দ্র বসু। তারও আগে টানা সাত বছর বিজেপিতে ছিলেন তিনি। ২০১৬ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে তাঁর আবেদন ছিল নেতাজির আদর্শকে সামনে রেখে কাজ করার। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি বলে দাবি তাঁর।

আরও পড়ুন :: চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে পারবেন অভিষেক, সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি, মানতে হবে একাধিক শর্ত

এই প্রসঙ্গে চন্দ্র বসুর বক্তব‌্য, “বিজেপিতে যখন ছিলাম নেতাজির আদর্শে কিছু করা তখনও সম্ভব হয়নি, আর তৃণমূল এ রাজ্যে হারার পর তাদের সঙ্গে থেকে নতুন করে নেতাজির আদর্শে জাতীয় স্তরে আর কিছু করার নেই। কিন্তু সেই কাজ তো করতেই হবে। তাই নতুন রাজনৈতিক দল গড়ার ভাবনা।” নতুন দল গঠনের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনে দলের নথিভুক্তিকরণ এবং প্রতীক নির্ধারণের মতো সাংগঠনিক কাজও ধাপে ধাপে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

চন্দ্র বসুর দাবি, নতুন রাজনৈতিক দল তৈরির পরিকল্পনা তাঁর কাছে একেবারেই সাম্প্রতিক কোনও সিদ্ধান্ত নয়। জাতীয় স্তরে নেতাজির কর্মধারা ও আদর্শকে ভিত্তি করে এর আগেও ‘আজাদ হিন্দ মোর্চা’ গড়ে কাজ করার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগেই এই ভাবনার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জানিয়েছিলেন বলে দাবি তাঁর।

সেই সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হওয়া কথোপকথনের প্রসঙ্গ তুলে চন্দ্র বসুর বক্তব‌্য, “প্রধানমন্ত্রী সে সময় বলেছিলেন দেশে ১৬০০ রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যেই আছে। আরও একটা দল গড়ে কী হবে! তার চেয়ে তাঁদের সঙ্গে থেকেই কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।” তবে প্রধানমন্ত্রীর আমলে নেতাজি সংক্রান্ত বেশ কিছু গোপন নথি প্রকাশ্যে আসায় বহু অজানা তথ্য সামনে এসেছে বলেও মনে করেন চন্দ্র বসু। সেই কারণে এই কাজের কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া উচিত বলেই তাঁর বক্তব্য।

আরও পড়ুন :: গ্রেপ্তারির আশঙ্কা! হাজিরার হ্যাট্রিকের দিনই রক্ষাকবচ চেয়ে হাই কোর্টে অভিষেকের পিএ সুমিত

তবে শুধু নেতাজি সংক্রান্ত গোপন নথি প্রকাশ কিংবা তাঁর অন্তর্ধান ও মৃত্যুর রহস্য নিয়ে বিতর্ক চালিয়ে যাওয়া যথেষ্ট নয় বলেই মনে করেন চন্দ্র বসু। তাঁর মতে, নেতাজির আদর্শকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে। বিজেপি ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাঁর আক্ষেপ, “ধীরে ধীরে বুঝতে পারি বিজেপি শুধুমাত্র নিজেদের আদর্শ নিয়েই কাজ করছে। সেই কারণেই ওই দল ছেড়ে আসতে হয়।”

নতুন রাজনৈতিক দল তৈরির ক্ষেত্রে জেন জি-কে সামনে রাখার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন চন্দ্র বসু। তাঁর মতে, দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্মই বড় ভূমিকা নিতে পারে। তিনি বলেন, “বর্তমান সময় কোনও তথাকথিত রাজনৈতিক দল নয়, দেশের সিস্টেম, সমস্ত রাজনৈতিক দল, দেশের মানুষ সবাইকে ধরে একটা ঝাঁকুনি দিতে পারে জেন জি। দিল্লির সাম্প্রতিক আন্দোলন তার দৃষ্টান্ত। আমি মনে করি নেতাজির আদর্শকে সামনে রেখে এই জেন জি বর্তমানে যা কাজ করছে তাতে নেতাজির নামে নতুন দল হলে তাঁরাই সেই দলের মূল চালিকাশক্তি হতে পারবে” যুক্তি চন্দ্র বসুর।

শুধু বাংলায় নয়, গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ওড়িশা-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণ সুভাষপ্রেমী এবং গবেষকদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে চন্দ্র বসুর। নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগে সেই যোগাযোগ তাঁকে উৎসাহিত করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। নেতাজির আদর্শকে কেন্দ্র করে জাতীয় স্তরে নতুন রাজনৈতিক পরিসর তৈরি করাই এখন তাঁর মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button