ঝাড়গ্রাম

কাজ করেও মেলেনি মজুরি, প্রশাসনের দরজায় ঘুরছেন শ্রমিকরা

স্বপ্নীল মজুমদার

ঝাড়গ্রাম: এক বছর আগে মাটির সৃষ্টি প্রকল্পে রুক্ষ জমিতে রোপণ করা হয়েছিল কয়েক হাজার ফলের চারা। বাগানের সেই সব গাছে ফল ধরেছে। কিন্তু একশো দিনের প্রকল্পে ওই বাগানে কাজ করেও মজুরি পাননি প্রায় দেড়শো পরিবার।

ঝাড়গ্রাম ব্লকের মানিকপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের গোদারাস্তা মৌজায় ২৭ একর রুক্ষ জমিকে উপযোগী করে বাগান তৈরি করে সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির ফলের গাছ লাগিয়ে সবুজায়ন করা হয়েছে। ৩৮ জন স্থানীয় চাষিদের নিয়ে তৈরি হয়েছে একটি সমবায়। প্রকল্পটি ওই সমবায়ের মাধ্যমে দেখভাল করা হচ্ছে। মানিকপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্বশোল, লালগেড়িয়া, গোদারাস্তা, বড়বাড়ির মত এলাকার বিভিন্ন গ্রামের যে সব পরিবার জমির মাটি তৈরি করে গাছ রোপণের জন্য গর্ত খুঁড়েছিলেন, তাঁদের প্রশ্ন, কবে মজুরি মিলবে? প্রশাসন সূত্রের খবর, একশো দিনের প্রকল্পের বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্র। তার ফলে জেলা জুড়ে যে সব কাজ হয়ে গিয়েছে, সেই সব কাজের গত প্রায় ছ’সাত মাসের মজুরি দেওয়া যাচ্ছে না। তবে মানিকপাড়া পঞ্চায়েতের গোদারাস্তা মৌজায় ২৭ একর জমিতে মাটির সৃষ্টি প্রকল্পটি দেখে প্রশংসা করে গিয়েছেন রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা।

মানিকপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মহাশিস মাহাতো বলেন, ‘‘জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও গ্রাম পঞ্চায়েতের সহযোগিতায় প্রকল্পটি রূপায়িত হয়েছে। গাছে ফলও ধরেছে। তবে বরাদ্দের অভাবে এখনও বেশ কিছু পরিবারের প্রাপ্য মজুরি মেটানো যায়নি।’’

একশো দিনের প্রকল্পে ওই কাজের সুপার ভাইজার শ্যামাপদ মাহাতো জানান, বছর খানেক আগে জমি সমতলীকরণের কাজ শুরু হয়। তার পরে গত বছর অগস্টে আম, পেয়ারা, ড্রাগনফল, বেদানা, লেবু, কুল সহ নানা ফলের গাছের চারা রোপণ করা হয়। পেয়ারা ও বেদানা গাছে ফলও ধরেছে।

এলাকার বিভিন্ন গ্রামের প্রায় তিনশো পরিবার পর্যায়ক্রমে কাজ করেছেন। গত বছর শ্রমিকদের মজুরি মেটানো হয়। চলতি বছরের মজুরি পাননি প্রায় দেড়শো পরিবার। সুপারভাইজারের কাজ করে শ্যামাপদ নিজেও মজুরি পাননি। প্রকল্পে কাজ করে মজুরি না পাওয়া বাসিন্দারা পঞ্চায়েতে গিয়ে দরবার করছেন। কিংবা শ্যামাপদর কাছে গিয়ে খোঁজ নিচ্ছেন। কিন্তু মজুরি মিলছে না।

গোদারাস্তার মৌজার ওই বাগানে মাথা তুলেছে ১২০০ ড্রাগন ফলের গাছ, ১১০০ টি পাতি লেবু গাছ, ৯৫০ টি পেয়ারা গাছ, ৭৮০ টি বেদানা গাছ, ৫৫০টি আমগাছ, ৪৫০ মৌসম্বি লেবু গাছ, ৬৫০টি কুলগাছ, ৮০০ টি কাজু গাছ।

আরও পড়ুন ::

Back to top button