‘যাদবপুরে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হবে!’ ক্যাম্পাসে ছাত্র সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের পর দিলীপ ঘোষের চরম হুঁশিয়ারি
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং বিজেপি সমর্থিত ছাত্র সংগঠন এবিভিপির সংঘর্ষ ঘিরে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। এই আবহেই নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ফের ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান শোনা গেলে কিংবা কোনও ধরনের দেশবিরোধী কার্যকলাপ নজরে এলে আবারও ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ করা হবে।
শুক্রবার সকালে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, “অতীতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিকবার দেশবিরোধী কার্যকলাপ ও স্লোগান উঠেছে। কেউ তার প্রতিবাদ করেনি। তৎকালীন তৃণমূল সরকার সেখানে দেশবিরোধীদের প্রশ্রয় দিয়ে পুষে রেখেছিল।” এই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, “আমি বলেছিলাম, এগুলো চলবে না, বন্ধ করুন। এসএফআই-এর অফিস ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। আবার যদি ওখানে দেশবিরোধী গতিবিধি দেখা যায় বা স্লোগান ওঠে, আবার সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হবে।” দিলীপ ঘোষের আরও হুঁশিয়ারি, “ছয় মাস অপেক্ষা করুন, অনেক কিছু উল্টেপাল্টে যাবে। দেশবিরোধী গতিবিধি আর বরদাস্ত করা হবে না।”
প্রসঙ্গত, এবিভিপি এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে গত বুধবার রাত থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে উত্তেজনা ছড়ায়। ওই রাতে অরবিন্দ ভবনে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একটি জেনারেল বডি মিটিং চলছিল। সেই মিটিংকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ ওঠে, বাইরে থেকে এবিভিপি সমর্থকরা এসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছেন। অন্যদিকে, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধেও মারধরের অভিযোগ তোলে এবিভিপি।
বৃহস্পতিবার দিনভর ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল। এর মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী নন্দলাল বসুর তৈরি এমব্লেমের একটি অংশ ভাঙচুর করা হয়। ভাঙা অংশটি মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের মধ্যেও ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলক ভাঙার ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন অধ্যাপকরা। দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত প্রতীকী ফলক হাতে নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হবে। একইসঙ্গে, ঘটনার পর এফআইআর করা হবে কি না, তা নিয়ে শুক্রবার কর্তৃপক্ষের বৈঠকও হওয়ার কথা রয়েছে।



