১২ আগস্ট সূর্যগ্রহণ: রান্নাঘর থেকে ঠাকুরঘর, কোন ভুলগুলি এড়িয়ে চলবেন? জানুন গ্রহণের সঠিক নিয়ম ও করণীয়
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

মহাজাগতিক ঘটনা হলেও সনাতন সংস্কৃতিতে সূর্যগ্রহণের গুরুত্ব অপরিসীম। আগামী ১২ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে চলেছে চলতি বছরের দ্বিতীয় সূর্যগ্রহণ। যদিও এটি ভারতের আকাশে দেখা যাবে না, তবু গ্রহণের ‘সূতক কাল’ ও এর প্রভাব নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই বাঙালি পরিবারে। গ্রহণের নেতিবাচক প্রভাব কাটানো এবং সংসারের মঙ্গল কামনায় রান্নাঘর থেকে ঠাকুরঘর—কোথায় কী নিয়ম মেনে চলা উচিত? দেখে নিন বিস্তারিত।
গ্রহণ চলাকালীন রান্নাঘরের নিয়ম: খাবার সতেজ রাখবেন কীভাবে?
শাস্ত্র ও লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, গ্রহণ চলাকালীন ক্ষতিকর রশ্মি ও নেতিবাচক শক্তির প্রভাবে রান্না করা খাবার দ্রুত দূষিত হয়।
আহার বর্জন: গ্রহণের সময় নতুন করে রান্না করা বা ভারী খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলাই প্রচলিত নিয়ম।
বিশেষ ছাড়: শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থদের ক্ষেত্রে কঠোর উপবাস প্রযোজ্য নয়।
তুলসী পাতার ব্যবহার: গ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই পানীয় জল, দুধ ও রান্না করা খাবারে তুলসী পাতা দিয়ে রাখুন। বিশ্বাস করা হয়, তুলসী পাতার প্রাকৃতিক গুণ খাবারকে বিশুদ্ধ ও সতেজ রাখে।
আরও পড়ুন :: জানেন কী ? যৌনপল্লীর মাটিই কেন দুর্গাপ্রতিমা নির্মাণে ব্যবহার ?
ধারালো জিনিস ব্যবহার নিষিদ্ধ! ঠাকুরঘরে কী করবেন?
গ্রহণ চলাকালীন ঘরের সামগ্রিক পরিবেশ শান্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন প্রবীণরা।
যা এড়িয়ে চলবেন: কাঁচি, ব্লেড, বঁটি, ছুরি বা সূঁচের মতো ধারালো বস্তুর ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা শ্রেয়।
শুভ ফল পেতে: অশুভ শক্তি কাটাতে এই সময়ে এক স্থানে বসে ইষ্টদেবের নাম স্মরণ, গায়ত্রী মন্ত্র অথবা ‘ওঁ সূর্যায় নমঃ’ জপ করুন। এটি গৃহস্থের সমৃদ্ধি বৃদ্ধি করে।
গর্ভবতী নারীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা
গ্রহণের সময়ে হবু মায়েদের বাড়তি খেয়াল রাখার পরম পরামর্শ দেওয়া হয়।
ঘরের ভেতরে থাকা: সরাসরি সূর্যের আলো বা গ্রহণ স্পর্শ থেকে গর্ভবতী নারীদের দূরে থাকা উচিত।
মানসিক শান্তি: সেলাই করা বা ঘরের ভারী কাজ এড়িয়ে চলুন। এই সময়ে ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা বা শান্তভাবে বিশ্রাম নেওয়া হবু সন্তান ও মা—উভয়ের জন্যই মঙ্গলজনক।
আরও পড়ুন :: বাড়িতে বাথরুমের দরজা কখনও বেশি ক্ষণ খুলে রাখতে নেই, কি বলছে জ্যোতিষ শাস্ত্র
গ্রহণ শেষের শুদ্ধিকরণ ও দান
গ্রহণ কেটে যাওয়ার পর ঘরদোর পরিষ্কার করা এবং শরীর শুদ্ধ করার প্রাচীন রীতি রয়েছে।
স্নান ও শুদ্ধি: গ্রহণ শেষে গঙ্গাজল মিশ্রিত জলে স্নান সেরে নেওয়া শুভ।
দান-ধ্যান: গ্রহণের পর দুস্থ ব্যক্তিদের চাল, গম, তিল বা বস্ত্র দান করলে সংসারের সমস্ত অশুভ শক্তি কেটে গিয়ে শুভ শক্তির আগমন ঘটে।



