অপরাধ

মালদহে গৃহবধূর সঙ্গে মধ্যযুগীয় বর্বরতা

মালদহে গৃহবধূর সঙ্গে মধ্যযুগীয় বর্বরতা - West Bengal News 24

আবারও মধ্যযুগীয় বর্বরতা। প্রতিবেশীকে না জানিয়ে তার বাড়ির সীমানায় কুশঘাস শুকাতে দিয়েছিলেন এক গৃহবধূ। সেই অপরাধে ওই গৃহবধূকে একা পেয়ে তাঁর যৌনাঙ্গে লাঠি ঢুকিয়ে দিল অভিযুক্ত প্রতিবেশী। মালদহের মানিকচক ব্লকের ভুতনী থানার সুখদেবটোলার দক্ষিণ চন্ডীপুরের ঘটনা।

আক্রান্ত ওই গৃহবধূর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্ত ওই প্রতিবেশীর নাম গৌরাঙ্গ মণ্ডল। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। জানা গিয়েছে, গত ২৯ অক্টোবর ওই ঘটনার পর আক্রান্তের পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় ভূতনি থানায় অভিযোগ জানালেও পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ।

বর্তমানে গুরুতর আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই গৃহবধূ মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনাটি ঘটেছে ২৯অক্টোবর। অভিযোগও করা হয় সেইদিনই। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি পুলিশ এমনই অভিযোগ আক্রান্ত গৃহবধূর।

গত তিনদিন ভুতনী হাসপাতালে চিকিৎসার পরও যৌনাঙ্গের রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় ভুতনী হাসপাতালের চিকিৎসকরা ওই গৃহবধূকে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। স্থানীয় থানার পুলিশ উপযুক্ত পদক্ষেপ না নেওয়ায় অভিযুক্তের শাস্তির দাবি-সহ পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগ জানিয়ে মালদহের পুলিশ সুপারকে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন আক্রান্ত গৃহবধূর পরিবার। অভিযোগ পেয়ে ইতিমধ্যেই তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশ সুপার।

গৃহবধূর স্বামীর অভিযোগ, এমন ঘটনার পর পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার জন্য অভিযুক্তরা অভিযোগ তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। এমনকি আক্রান্তের পরিবারকে প্রাণনাশেরও হুমকী দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। পুলিশ সুপার যদি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়ার কথা বলেছেন আক্রান্ত গৃহবধূর স্বামী।

প্রসঙ্গত, মাত্র দুদিন আগেই উত্তরপ্রদেশে যোগীর রাজ্যে পরিবারের লোকেদের গাছে বেঁধে এক মহিলাকে গণধর্ষণ করে দুষ্কৃতীরা। ওই ঘটনার পর আক্রান্ত ওই মহিলা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ জানাতে অভিযোগ লিপিবদ্ধ না করে আক্রান্ত ওই মহিলা ও তাঁর পরিবারের লোকেদের থানা থেকে তাড়িয়ে দেয় পুলিশ।
ওই ঘটনায়ও পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলে নির্যাতিতার পরিবার।

পরে ওই পাশবিক অত্যাচারের ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে শেষ পর্যন্ত নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ কে ধামা চাপা দিতে আক্রান্তের অভিযোগ নিতে এক প্রকার বাধ্য হয় পুলিশ। এদিনের ঘটনায় পুলিশ শেষ পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয় কিনা সে দুকেই তাকিয়ে আছে মালদহে আক্রান্ত ওই নির্যাতিতার পরিবার। এদিনের ঘটনায় পুলিশের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সুত্র : kolkatatimes24.com

আরও পড়ুন ::

Back to top button