মসজিদ নির্মাণ ঘিরে বিতর্ক! মমতার সামনে ইমামের কড়া মন্তব্য, নিশানায় হুমায়ুনের প্রকল্প
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

মসজিদ বানিয়ে ভেদাভেদ করা হচ্ছে মুসলিমদের মধ্যে, ইমামের নিন্দা মমতার সামনে, নিশানায় হুমায়ুনের বাবরি তৈরির প্রকল্প কোনও ব্যক্তির নাম সরাসরি উল্লেখ না করেই মসজিদ নির্মাণ প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতেই সরব হলেন কলকাতার ষোলআনা মসজিদের ইমাম আব্দুল হামিদ। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, নিলম্বিত তৃণমূল বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির সভাপতি হুমায়ুন কবীর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় যে বাবরি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন, ইমামের মন্তব্য সেই প্রকল্পকেই উদ্দেশ্য করে করা।
বৃহস্পতিবার কলকাতা পুরসভার আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইমাম বলেন, ‘‘আফসোস হচ্ছে, মসজিদ বানিয়ে মুসলিমদের মধ্যে ভেদাভেদ তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে। এটা ঠিক হচ্ছে না। এর নিন্দা করি।’’ তিনি আরও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট মসজিদ নির্মাণের সঙ্গে কোনও ইমাম যুক্ত নন।
যদিও তাঁর নামোল্লেখ না থাকলেও পালটা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। ভরতপুরের বিধায়ক বলেন, ‘‘এই ধরনের ইমামদের কোনও সার্টিফিকেট হুমায়ুন কবীরের প্রয়োজন নেই। কিছু ইমাম আছেন, যাঁরা সামান্য ইমামভাতা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদলেহন করেন। তাঁরা কী বললেন, তাতে আমার কিছু যায় আসে না।’’
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় করসেবকদের হাতে ভেঙে ফেলা হয়েছিল বাবরি মসজিদ। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সুপ্রিম কোর্ট ওই স্থানে রামমন্দির নির্মাণের নির্দেশ দেয় এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তার উদ্বোধন সম্পন্ন হয়। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে একই তারিখে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন হুমায়ুন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই উদ্যোগ রাজ্যের রাজনীতিতে মেরুকরণের আবহ আরও জোরালো করতে পারে।
গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। ভোটের আগে হুমায়ুনের নতুন রাজনৈতিক দল গঠন এবং মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগকে ঘিরে সেই সমীকরণে পরিবর্তন আসতে পারে কি না, তা নিয়েও জল্পনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ইমামের মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
ইফতার মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের উন্নয়ন প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ইমাম হামিদ। তিনি বলেন, ‘‘ইমামভাতা থেকে স্বাস্থ্য পরিষেবা-সহ বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি পশ্চিমবঙ্গের থেকে দেখে অন্য রাজ্য বাস্তবায়িত করেছে।’’ পাশাপাশি ইসলামিয়া হাসপাতালের উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘আগে ইসলামিয়া হাসপাতালে জীবন্ত মানুষ এলে মৃত হয়ে বার হতেন। কিন্তু এখন ছবিটাই বদলে গিয়েছে। সেখানে এখন বিহার, ঝাড়খণ্ড, ত্রিপুরা, মণিপুর থেকেও রোগীরা আসছেন।’’
বৃহস্পতিবারের ইফতার অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি দেখা যায়। উপস্থিত ছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ, রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মালা রায়, চৌরঙ্গির বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগের দিন ভবানীপুরে জৈন সম্প্রদায়ের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে একাধিক সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, যার মধ্যে ফুরফুরা শরিফে ১০০ বেডের হাসপাতালও রয়েছে। বৃহস্পতিবারের ইফতার মঞ্চে সেই হাসপাতালের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানান ইমামরা।



