রাজ্য

এবার কি অসমের পথেই বাংলা? ডিলিমিটেশন নিয়ে বিধানসভায় বড় ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

Assam delimitation model in Bengal : এবার কি অসমের পথেই বাংলা? ডিলিমিটেশন নিয়ে বিধানসভায় বড় ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর - West Bengal News 24

কেন্দ্রীয় স্তরে লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। সম্প্রতি সংসদে নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়মের পাশাপাশি ডিলিমিটেশন বিল আনার পরিকল্পনাও করেছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই বিল পেশ করা হয়নি। তবে জাতীয় রাজনীতিতে বিষয়টি নিয়ে জল্পনার মাঝেই বাংলার বিধানসভায় ডিলিমিটেশন প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

শুক্রবার নতুন স্পিকার নির্বাচনের পর বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে বিধানসভা ভবনে বড়সড় সংস্কারের প্রয়োজন হতে পারে। এমনকী নতুন ভবন তৈরির ভাবনাও সামনে আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগামী দিনে অনেক সংস্কারের প্রয়োজন আছে। রাজ্য সরকারের আধিকারিকরা আজ এই ঐতিহাসিক অধিবেশনের সাক্ষী। ডিলিমিটেশন হয়ে গেলে হয়তো আসন সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে। সেক্ষেত্রে আমাদের নতুন ভবন তৈরি করার দরকার পড়তে পারে।”

আরও পড়ুন :: ডায়মন্ড হারবারে শুভেন্দুর প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক: অভিষেকের গড়ে কি পদ্ম-ঝড়? ফলতা ভোটের আগে মাস্টারস্ট্রোক মুখ্যমন্ত্রীর!

রাজনৈতিক মহলে এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কারণ ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাস দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এজেন্ডা হিসেবে পরিচিত। যদিও রাজ্যে গেরুয়া শিবিরের নির্বাচনী ইস্তাহারে এই প্রসঙ্গ সরাসরি উল্লেখ ছিল না। সেই পরিস্থিতিতে বিধানসভা অধিবেশনের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রীর মুখে ডিলিমিটেশনের প্রসঙ্গ উঠে আসা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

নিয়ম অনুযায়ী, লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হলেও বিধানসভা আসনের পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে সেই বাধ্যবাধকতা নেই। রাষ্ট্রপতির সম্মতি মিললে রাজ্য সরকার কমিশন গঠন করতে পারে। পরে সেই কমিশনের রিপোর্ট বিধানসভায় পাশ করাতে হয়। বর্তমানে রাজ্যে সরকারের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায়, চাইলে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সরকারের পক্ষে খুব একটা কঠিন হবে না বলেই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

এরপরই উঠতে শুরু করেছে আরও বড় প্রশ্ন। ২০২৩ সালে অসমে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার আমলে যেভাবে আসন পুনর্বিন্যাস হয়েছিল, বাংলাতেও কি সেই একই মডেল কার্যকর হতে চলেছে? বিরোধীদের দাবি, অসমে পুনর্বিন্যাসের পর সংখ্যালঘু ভোটের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে। আগে যেখানে প্রায় ৩৫টি আসনে সংখ্যালঘু ভোট নির্ণায়ক ভূমিকা নিত, সেখানে বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ২২-এ। চলতি বিধানসভা নির্বাচনে ওই সীমিত কয়েকটি আসনের বাইরে বিরোধীদের প্রভাব খুব একটা চোখে পড়েনি বলেও দাবি তাদের। ফলে বাংলাতেও কি একই ধরনের রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির প্রস্তুতি চলছে, তা নিয়েই এখন জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button