অভিষেককে হেনস্তাকারীরা লাভলি ঘনিষ্ঠ? ‘পুলিশ কোথায় ছিল?’ বোমা ফাটালেন প্রাক্তন বিধায়ক!
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

সোনারপুরে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেনস্থার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য। জনরোষের মুখে পড়ার পর পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪ জনকে, আটক আরও ৩। তবে এই ঘটনার পর থেকেই শুরু হয়েছে চরম রাজনৈতিক তরজা। অভিযোগের তির উঠেছে সোনারপুর দক্ষিণের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক লাভলি মৈত্রের দিকে। দাবি করা হচ্ছে, ধৃত হামলাকারীরা নাকি লাভলির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ! এই মারাত্মক অভিযোগ নিয়ে এবার শেষমেশ মুখ খুললেন খোদ প্রাক্তন বিধায়ক। কী সাফাই দিলেন তিনি? পুলিশের ভূমিকা নিয়েই বা কী বিস্ফোরক প্রশ্ন তুললেন? জেনে নিন বিস্তারিত।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ আকাশ গায়েন, কাজল, দেবাশিস এবং জয় সেনগুপ্ত নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের বিরুদ্ধে বেআইনি জমায়েত ও পথ আটকানোসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, এই ধৃত আকাশ ও তার সঙ্গীরা প্রাক্তন বিধায়ক লাভলি মৈত্রের ঘনিষ্ঠ অনুগামী। তাহলে কি দলের অন্দরের কোন্দলের জেরেই আক্রান্ত হলেন অভিষেক?
এই জল্পনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন শহর থেকে দূরে থাকা লাভলি মৈত্র। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান: “আমি বর্তমানে এলাকার বাইরে রয়েছি। তবে স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই, যাঁরা গ্রেপ্তার হয়েছেন তাঁরা কেউ তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত নন। আমি ইতিমধ্যেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে ধৃতদের ছবি পাঠিয়ে সত্যতা যাচাই করার কথা বলেছি।”
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুললেন প্রাক্তন বিধায়ক!
শুধু অভিযোগ অস্বীকার করাই নয়, এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উলটে চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন লাভলি। সাংসদের নিরাপত্তার গলদ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন:
“এলাকায় একজন হেভিওয়েট সাংসদ যাচ্ছেন, অথচ সেখানে পর্যাপ্ত পুলিশ নেই কেন?”
“অভিষেকের ওপর যখন হামলা চালানো হলো, তখন পুলিশ সময়মতো কেন পৌঁছাল না?”
“আমি যদি আজ বাইরে না থাকতাম, তবে নিজেই সরাসরি ঘটনাস্থলে পৌঁছে যেতাম।”
বর্তমানে পুলিশ এলাকার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখে ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, আগামীতে গ্রেপ্তারির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এদিকে সোনারপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তিনি একে তৃণমূলেরই এক পূর্বপরিকল্পিত ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুকান্ত বাবু দাবি করেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সিআইডি (CID) ডেকে পাঠিয়েছে। সেই হাজিরা এড়ানোর জন্যই কি এই পরিকল্পিত হামলা সাজানো হলো না তো? এর পিছনে গভীর রহস্য রয়েছে। পুলিশের উচিত নিরপেক্ষভাবে এর তদন্ত করা।”
এক নজরে সোনারপুর কাণ্ডের মূল আপডেট:
কী ঘটেছে? সোনারপুরে আক্রান্ত তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
পুলিশি অ্যাকশন: ৪ জন গ্রেপ্তার (আকাশ, কাজল, দেবাশিস ও জয়), আটক আরও ৩।
মূল বিতর্ক: হামলাকারীরা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক লাভলি মৈত্রের ঘনিষ্ঠ বলে অভিযোগ।
লাভলির পাল্টা চাল: ধৃতদের সঙ্গে তৃণমূলের যোগ অস্বীকার, প্রশ্ন তুললেন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে।
বিরোধী শিবিরের দাবি: সিআইডি হাজিরা এড়াতে এটি তৃণমূলেরই ছক হতে পারে বলে আশঙ্কা সুকান্ত মজুমদারের।



