পূর্ব মেদিনীপুরভাইরাল

মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও হাসিমুখে ভিডিও পোস্ট! জনপ্রিয় ভ্লগার প্রিয়তমার রহস্যমৃত্যু, অন্তিম মুহূর্তে কী ঘটেছিল?

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও হাসিমুখে ভিডিও পোস্ট! জনপ্রিয় ভ্লগার প্রিয়তমার রহস্যমৃত্যু, অন্তিম মুহূর্তে কী ঘটেছিল? - West Bengal News 24

মাত্র ২১ বছর বয়সেই নিভে গেল এক উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় জীবন। সোশ্যাল মিডিয়ার পরিচিত মুখ, জনপ্রিয় ডিজিটাল ক্রিয়েটর প্রিয়তমা ওরফে সীমা দাস শাসমলের আকস্মিক ও রহস্যজনক প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে নেটপাড়ায়। মৃত্যুর ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেও যিনি ফেসবুকে তারকেশ্বর যাত্রার হাসিখুশি ভিডিয়ো পোস্ট করেছিলেন, কী এমন ঘটল যে শনিবার রাতেই বিষাক্ত রাসায়নিক খেয়ে তাঁকে প্রাণ হারাতে হলো?

ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্য়েই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার চণ্ডীপুরে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্ত শুরু হলেও মৃত্যুর আসল কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থানার অন্তর্গত পায়রাচালি গ্রামের বাসিন্দা সীমা দাস শাসমল। সোশাল প্ল্যাটফর্মে প্রিয়তমা নামেই তিনি অনুরাগীদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত ছিলেন। মূলত নিজের নাচ ও জীবনযাত্রার নানা মুহূর্ত ভিডিয়োর মাধ্যমে তুলে ধরে খুব অল্প সময়েই প্রচুর অনুগামী অর্জন করেছিলেন সীমা।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন বছর আগে ভালোবেসে স্থানীয় বাসিন্দা মনোজিতের সঙ্গে বিয়ে হয় সীমার। গৃহস্থালির কাজের পাশাপাশি স্বামী মনোজিতের পরচুলা (Wig) তৈরি ও বিক্রির ব্যবসাতেও সক্রিয়ভাবে হাত লাগাতেন তিনি। দাম্পত্য জীবনে কোনো বড় কোনো সমস্যা বা অশান্তির কথা জানা ছিল না বলে দাবি পরিবারের।

গত শনিবার বিকেলে ঘটনার সূত্রপাত। স্বামী মনোজিৎ বাড়িতে তৈরি পরচুলা সরবরাহ করতে বাইরে গিয়েছিলেন। সেই সময় বাড়িতে একাই ছিলেন সীমা। পরিবারের দাবি, পরচুলা প্রসেসিং এবং রং করার কাজে ব্যবহৃত অত্যন্ত বিষাক্ত একটি রাসায়নিক খেয়ে ফেলেন সীমা।

মনোজিৎ বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেন। তড়িঘড়ি তাঁকে প্রথমে চণ্ডীপুরের স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটলে চিকিৎসকরা তাঁকে তমলুকের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করেন। সেখানে চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে শনিবার রাত আনুমানিক ১২টা নাগাদ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই তরুণী ভ্লগার।

হাসিমুখে তারকেশ্বর যাত্রা, মৃত্যুর আগের ভিডিয়ো ঘিরে ঘনীভূত রহস্য

সীমার এই চরম সিদ্ধান্ত বা আকস্মিক মৃত্যুকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁর অনুগামী ও পরিবারের সদস্যরা। কারণ, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর সক্রিয়তা দেখে এতটুকু বোঝার উপায় ছিল না যে ভেতরে কোনো মানসিক চাপ ছিল।

  • সোমবার: স্বামী মনোজিতের সাথে তারকেশ্বর মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন।

  • শনিবার সকাল: ফেসবুকে তারকেশ্বরে জল ঢালতে যাওয়ার একটি ভিডিয়ো আপলোড করেন, যেখানে তাঁকে অত্যন্ত প্রফুল্ল ও স্বাভাবিক দেখাচ্ছিল।

মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই ধরনের বৈপরীত্য দেখে হতবাক সবাই। সীমার দাদু বিষ্ণুপদ শাসমলের কথায়, “সংসারে কোনো অশান্তির ইঙ্গিত আমাদের জানা ছিল না।”

তরুণী ভ্লগারের এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ না হলেও প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে চণ্ডীপুর থানার পুলিস। এটি দুর্ঘটনাজনিত বিষক্রিয়া, আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা মানসিক অবসাদ লুকিয়ে রয়েছে—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং রিপোর্ট আসলেই মৃত্যুর আসল কারণ পরিষ্কার হবে বলে আশা করছে পুলিস।

প্রিয়তমার পোস্ট করা শেষ ভিডিও

আরও পড়ুন ::

Back to top button