ল্যান্ড জেহাদ রুখতে কড়া আইন আনছেন শুভেন্দু? অনুমতি ছাড়া ভিনধর্মে জমি বিক্রি বন্ধের ইঙ্গিত
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত ঘেঁষা জেলাগুলিতে দ্রুত বদলে যাচ্ছে জনবিন্যাস। অনুপ্রবেশ ও বহিরাগতদের দাপটে ভূমিপুত্ররা নিজেদের ভিটেমাটি হারাচ্ছেন—এমন উদ্বেগ বহুদিনের। এই প্রেক্ষাপটে ‘ল্যান্ড জেহাদ’ রুখতে রাজ্যে কড়া জমি কেনাবেচা সংক্রান্ত আইন আনার বড় ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাঁকুড়ার প্রশাসনিক সভা থেকে ধর্ম পরিবর্তন ও জমি হস্তান্তরে কঠোর আইনি নিয়ন্ত্রণের বার্তা দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার বাঁকুড়ার সভা শেষে রাজ্য সরকারের নেওয়া একাধিক পদক্ষেপের কথা মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জাতীয় নিরাপত্তা ও হিন্দুদের স্বার্থরক্ষায় তাঁর সরকার যে বিন্দুমাত্র আপস করবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়ে তিনি বলেন, বিএসএফ-কে সীমান্ত জমিতে অগ্রাধিকার দেওয়া, অবৈধ ওবিসি তালিকা বাতিল এবং ইমাম-মোয়াজ্জেম ভাতা বন্ধের মতো সিদ্ধান্ত ইতিপূর্বে কার্যকর করা হয়েছে।
আরও পড়ুন :: ‘বন্দে মাতরম’-এর আগে তামিল সঙ্গীত, বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ, কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতের পথে বিজয়
একইসঙ্গে মহরমে অস্ত্র প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা ও ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) চালুর প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, “আর দুটো কাজ আমার বাকি। ধর্ম পরিবর্তন আর জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে আইন আনা। এ কাজও আমি করছি।”
শুভেন্দু অধিকারী জমি সংক্রান্ত আইনের খসড়া নিয়ে বিস্তারিত খোলসা না করলেও, ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে অসম ও ওড়িশার আদলেই তৈরি হতে পারে এই আইন।
অসম মডেল: হিমন্ত বিশ্বশর্মার সরকার নিয়ম করেছে, সরকারের আগাম অনুমতি ছাড়া ভিন্ন ধর্মের মানুষের কাছে জমি বিক্রি করা যাবে না। ক্রেতার উপার্জনের উৎস এবং ওই হস্তান্তরের ফলে স্থানীয় সামাজিক সংহতি বিঘ্নিত হবে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রশাসন।
সামাজিক নিরাপত্তা: সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে বহিরাগতদের অবৈধভাবে জমি দখল ঠেকানোই এই ধরনের আইনের মূল উদ্দেশ্য।
লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘ল্যান্ড জেহাদ’ সংক্রান্ত হুঁশিয়ারির পর থেকেই বিষয়টি জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটাই এক। সরকার গঠনের পর থেকেই হিমন্ত বিশ্বশর্মার একাধিক প্রশাসনিক নীতি অনুসরণ করতে দেখা গিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীকে। ফলে অসমে জমি হস্তান্তরে যে কঠোর আইনি কাঠামো রয়েছে, বাংলায় সেটি হুবহু বা কিছু পরিবর্তনসহ চালু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এই আইন কার্যকর হলে রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলির জমি কেনাবেচায় বিশাল প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।



