কলকাতায় ২০৯ ও হাওড়ায় ওয়ার্ড বেড়ে ৬৮! বিধানসভায় বিশেষ অধিবেশনে পেশ সংশোধনী বিল
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

পুজোর পরেই রাজ্যে পুরভোটের প্রস্তুতি শুরু হতে পারে। কলকাতা ও হাওড়ায় পুরভোটের আগে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। সেই অনুযায়ী কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা সংক্রান্ত পৃথক দু’টি সংশোধনী বিল বিধানসভায় পেশ করা হয়েছে। বিশেষ অধিবেশনে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত সংশোধনী বিল পেশের পাশাপাশি আগের সংশোধনী বিল প্রত্যাহারের প্রস্তাবও আনা হয়। হাওড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গ তুলে বিধানসভায় পূর্ববর্তী সরকারকে আক্রমণ করেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
তাঁর অভিযোগ, “তৃণমূল জমানায় হাওড়ায় দুর্নীতি হয়েছে। পুকুর বুজিয়ে বৈআইনি নির্মাণ হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা তথৈবচ। পানীয় জলটুকুও সব বাড়িতে পৌঁছয় না। আমরা রাস্তা-নিকাশি-জল নিয়ে বিশেষ প্ল্যান করছি। ১৫ বছর ধরে হাওড়ার মানুষ বঞ্চিত। জনসংখ্যার তারতম্যের কারণেই ওয়ার্ড বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছিল। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস হলে নাগরিকরা সঠিকভাবে পরিষেবা পাবেন। মানুষের ভোটে হারবেন বলে, এতদিন ভোটই করতে দেয়নি তৃণমূল। আর্থিক বরাদ্দ ২০০ কোটি টাকা হাওড়া বঞ্চিত। হাওড়া মিউনিসিপ্যাল অ্যাক্ট অনুযায়ী, সংশোধনী বিল ২০২৬ নামে একটি বিল তৈরি হয়। প্রশাসনিক বৈষম্য ও পুর পরিষেবা সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে হাওড়ার ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে ৬৮টি বাড়ানো হবে।”
আরও পড়ুন :: নেতাজির নামে ‘বিধায়ক সেবা কেন্দ্র’! অনন্ত-বিতর্কে ইতি টানতে শুভেন্দুর মাস্টারস্ট্রোক, মিলবে মাসে ৩০ হাজার
বিধানসভায় হাওড়া উত্তরের বিধায়ক উমেশ রাইও আগের সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্য, “গত সরকারের আমলে নাগরিকদের নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে।” কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকেও নিশানা করেন তিনি। বিধায়কের কথায়, “নাগরিক পরিষেবার বদলে প্রতারণা হয়েছে মানুষের সঙ্গে। বালি পুরসভাকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো করে রাখা হয়েছে। হাওড়ার সবচেয়ে বড় সমস্যা জলনিকাশির অব্যবস্থা। তা হাল ফেরাতে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হাওড়া পুরসভার উন্নয়নের স্বার্থে ৪ হাজার ৭০২ কোটি বরাদ্দ করেছেন।”
পূর্বতন সরকারকে আক্রমণ করে বারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচি বলেন, “তৃণমূল নেতাদের করজোড়ে ক্ষমা চাওয়া উচিত। হাওড়া, বালির মানুষের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে এতদিন।”
সংশোধনী বিলের প্রয়োজনীয়তার ব্যাখ্যা দিয়ে কৌস্তভ বলেন, “এই পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন ছিল। হাওড়ায় ৫০ টি ওয়ার্ডের মধ্যে এমন অনেক ওয়ার্ড আছে, যেখানে কোথাও কোথাও ২০ থেকে ৩০ হাজার ভোটার সংখ্যা। বর্তমানে পুনর্বিন্যাসের ফলে ওয়ার্ড পিছু ১৫ থেকে ১৬ হাজার ভোটার থাকবেন। যার ফলে পরিষেবা সঠিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। ২০১৮ সাল থেকে নির্বাচন হয়নি, প্রশাসক দিয়ে কাজ চলছে। মানুষের স্বার্থে আমি এই বিলকে স্বাগত জানাচ্ছি।”
হাওড়ার উন্নয়ন এতদিন কেন হয়নি, তা নিয়ে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে একের পর এক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে দাঁড়ান ফিরহাদ। সেই সময় বিধানসভায় হইচই শুরু হয়। ফিরহাদের বক্তব্য, “বালিতে উন্নয়নের জন্য হাওড়ার সঙ্গে জোড়ার পরিকল্পনা ছিল।” এরপর জিতেন্দ্র তিওয়ারির সঙ্গে তাঁর বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
আরও পড়ুন :: দেবরাজের ১০০ কোটির সাম্রাজ্য! ৫ বছরে বিপুল সম্পত্তি, ইডি-কে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল পুলিশ
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডের সীমানা পুনর্বিন্যাস করে তা ২০০টি করার জন্য আগে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল। কিন্তু ওয়ার্ডভিত্তিক ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৬ হাজার রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে সীমানা নির্ধারণের পাশাপাশি একাধিক প্রশাসনিক জটিলতা সামনে আসে। সেই কারণেই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ৩১ জুলাই নতুন ওয়ার্ডের তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। তার বদলে পাঁচ দিন পর কলকাতা পুরসভা ২০৯টি ওয়ার্ডের মানচিত্র পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরে পাঠায়। ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়লেও কলকাতায় ১৬টি বরোই থাকবে বলে সূত্রের খবর।
নতুন ওয়ার্ডের তালিকা পাওয়ার পর রাজ্য নির্বাচন কমিশন সর্বদলীয় বৈঠক করবে। একই সঙ্গে ২০৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে মহিলা ও তফসিলি সংরক্ষিত আসনগুলিও চিহ্নিত করা হবে। পুজোর আগেই এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, গত আট বছর ধরে নির্বাচন না হওয়া হাওড়া কর্পোরেশনের ৫০টি ওয়ার্ডের সীমানা পুনর্বিন্যাস করে ৬৮টি ওয়ার্ডে পরিণত করার কাজও কলকাতার সঙ্গে শুরু হয়েছিল। নতুন ওয়ার্ডগুলির মানচিত্র তৈরির কাজও সম্পন্ন হয়েছে।
দীর্ঘদিন পুরভোট না হওয়ায় হাওড়া কর্পোরেশনে নির্বাচিত পুরপ্রতিনিধি না থাকার কারণে নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে। এবার বিধানসভার বিশেষ বর্ষাকালীন অধিবেশনে পুর দপ্তরের পক্ষ থেকে কলকাতা ও হাওড়ার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত সংশোধনী বিল পাস হলে হাওড়ার নাগরিক পরিষেবা আরও কার্যকরভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পথ খুলবে।



