
আর জি কর কাণ্ডের পর এবার ‘কাটমানি ফাইলস’ নিয়ে কড়া অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হকার ও অটোচালকদের কাছ থেকে তোলা আদায়, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি প্রকল্পে কাটমানির অভিযোগ সব ক্ষেত্রেই কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ভোট-পরবর্তী হিংসা, নারী নির্যাতন এবং পুলিশের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার ডায়মন্ড হারবারে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানান, পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা মেনেই কাজ করবে।
বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চার ধরনের অভিযোগ জানানোর জন্য আলাদা ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করেন। রাজনৈতিক হিংসা, পুলিশি অত্যাচার, কাটমানি এবং মহিলাদের উপর নির্যাতন এই চারটি বিষয়ে সাধারণ মানুষ সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন। রাজ্যের ডিজিপি, মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে হওয়া বৈঠকের পর শুভেন্দু জানান, গত পাঁচ বছরে রাজনৈতিক হিংসার শিকার হয়ে থাকলে সেই সংক্রান্ত এফআইআর দায়ের করা যাবে এবং পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি থানায় ডেকে পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ থাকলেও তা জানানো যাবে।
আরও পড়ুন :: ডার্বির আগেই বড় ধামাকা! যুবভারতীতে বিশেষ অতিথি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, টুটু বোসের স্মরণে বিশেষ সিদ্ধান্ত!
মহিলাদের উপর অত্যাচার বা নির্যাতনের অভিযোগ নিয়েও সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “নির্যাতনের অভিযোগ আপসে মিটিয়ে নেওয়ার অভিযোগ থাকলে এফআইআর দায়ের করা যাবে।” একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে কেউ কাটমানি নিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করা যাবে বলে জানান তিনি।
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী কাজ করবে পুলিশ। ডিজিটাল মাধ্যমে বা ব্যাঙ্কের মাধ্যমে টাকা দিয়ে থাকলে সেই প্রমাণ দিয়ে অভিযোগ দায়ের করা যাবে। কোনও প্রমাণ না থাকলেও অভিযোগ দায়ের করা যাবে। তদন্তকারী অফিসার অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবে।”
তবে মিথ্যা অভিযোগ দায়েরের ক্ষেত্রেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “আমি বলছি বলে ভুয়ো অভিযোগ দায়ের হবে তেমনটা নয়। অভিযোগ ভুয়ো হলে বিএনএস আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনে সে কথাও বলা আছে।”



