
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রসঙ্গে শ্রীময়ী চট্টরাজ স্পষ্টতই বিরক্ত। এই বিতর্কের পর রাগের মাথায় নতুন সিদ্ধান্তও জানালেন অভিনেত্রী ও কাঞ্চন মল্লিকের স্ত্রী।
মঙ্গলবার সুকান্ত মজুমদারের একটি সোশ্যাল পোস্ট নেটদুনিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করে। তাঁর দাবি শ্রীময়ী সরকারি প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা নিচ্ছেন। সেই পোস্টের জবাবে জোরালো পালটা দেন শ্রীময়ী চট্টরাজ। তাঁর বক্তব্য “কোথাও লেখা নেই বিধায়কপত্নী লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য আবেদন করতে পারে না।” গত ২৪ ঘণ্টায় শ্রীময়ীকে যেমন অনেক দর্শক সমর্থন জানিয়েছেন, একই সঙ্গে তাঁকে তীব্র সমালোচনাও সহ্য করতে হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ক্ষোভ উগরে দিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করেন তিনি।
এক্স প্ল্যাটফর্মে কয়েকটি ছবি পোস্ট করে সরাসরি নাম না করে সুকান্ত অভিযোগ করেন শ্রীময়ী সরকারি প্রকল্পে আবেদন করেছেন, এমনকি ‘লুটে নেওয়া’ শব্দটিও ব্যবহার করেন মন্ত্রী। এরপর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় কাঞ্চন–শ্রীময়ীকে নিশানা করে নানা কটাক্ষ শুরু হয়। কেউ প্রশ্ন রাখেন ‘এরপরও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দরকার?’ আবার অনেকেই বলেন ‘বিধায়কের স্ত্রী হয়েও বছরে বারো হাজার টাকা দরকার?’ এমন হাজারো মন্তব্যে নেটপাড়া সরগরম হয়ে ওঠে। আর সেসবেই বিরক্ত হয়ে শ্রীময়ী স্পষ্ট জানান “আমি অন্য কোনও দলের লোকেদের কথা শুনতে বাধ্য নই। আর সবার সব কৌতূহলের উত্তর দিতেও বাধ্য নই। যাঁরা ভুলভাল কথা বলছেন, তাঁদের অনেক সময়। তাঁরাই আপনাদের যাবতীয় কৌতূহল মিটিয়ে দেবেন। দয়া করে আমাকে আর কেউ বিরক্ত করবেন না!” এই বার্তাটিতে যে বিজেপি সাংসদের দিকেও ইঙ্গিত রয়েছে তা আলাদা করে বোঝানো প্রয়োজন নেই।
এরপর লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে সুকান্তের মন্তব্যের জবাবে শ্রীময়ীর বক্তব্য “বিধায়কের স্ত্রী হওয়ার আগে থেকেই আমার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কার্ড ছিল। তখন কাঞ্চনও বিধায়ক ছিল না। এরকম কোনও অন্যায় কাজ করিনি যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিতে পারব না। আমার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ডি-অ্যাক্টিভেট হয়ে গিয়েছিল, তাই আবার আবেদন করেছি। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সকলের জন্য, কোথাও লেখা নেই বিধায়কের স্ত্রী আবেদন করতে পারবেন না।” তাঁর আরও দাবি “বিজেপির বহু নেত্রী-অভিনেত্রীও সরকারি সুযোগ নেন, তাঁদের নামও আমি জানি।” বুধবার শ্রীময়ী জানান এই বিতর্ককে তিনি আর দীর্ঘায়িত করতে চান না।



