৫০ বিধায়ককে নিয়ে নতুন তৃণমূল? ‘কাল কী হবে কে জানে!’ ঋতব্রতর মন্তব্যে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

বাংলার রাজনীতিতে কি এবার বড়সড় উলটপুরাণ হতে চলেছে? মমতাজায়ার ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ও ‘তৃণমূল’ নামের আসল মালিকানা কি চলে যাচ্ছে দলছুট নেতাদের হাতে? গত কয়েকদিন ধরে চলা এই জল্পনা মঙ্গলবার আরও উসকে দিলেন প্রাক্তন বাম নেতা তথা বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। বিধানসভায় ৫০ জন বিক্ষুব্ধ বিধায়কের সই সম্বলিত চিঠি জমা দেওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রাখলেও, ঋতব্রতর একটি মন্তব্যেই এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। বিকেলে বিধানসভা থেকে বেরনোর সময় তিনি বলেন, “আমি আজ-এ বিশ্বাসী, কাল কী হবে জানি না, বলতে পারব না।” আর তাঁর এই ‘কাল কী হবে’ মন্তব্যের মধ্যেই রাজনৈতিক মহল দেখছে এক বড়সড় ঝড়ের পূর্বাভাস।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল, তৃণমূলের ৫০ জন বিক্ষুব্ধ বিধায়কের সই করা একটি চিঠি নিয়ে বিধানসভার স্পিকারের দপ্তরে যাচ্ছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি করা হচ্ছিল, এই চিঠিতেই লুকিয়ে রয়েছে ‘নতুন তৃণমূল’ গঠনের ব্লু-প্রিন্ট।
আরও পড়ুন :: বাড়ি ভাঙার নোটিস! বুলডোজার অ্যাকশনের মাঝেই হাই কোর্টের দ্বারে অভিষেকের বাবা-মা
তবে বিকেল গড়াতেই বিধানসভা ভবন থেকে বেরনোর সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে বিস্ফোরক দাবি করেন ঋতব্রত। তিনি স্পষ্ট জানান:
চিঠি বা সই সংক্রান্ত কোনো বিষয় তাঁর জানা নেই।
কোনো গোপন বৈঠক তিনি করেননি, প্রয়োজনে তাঁর ফোনের ‘টাওয়ার লোকেশন’ পরীক্ষা করা হোক।
তবে রথীন ঘোষ এবং শিউলি সাহার সঙ্গে দেখা করার কথা তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন।
একই সঙ্গে তাপস রায়ের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নিয়ে জল্পনা তৈরি হলে ঋতব্রত রসিকতা করে বলেন, “গল্পের গরু তো গাছে তুলতে পারব না!”
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিদ্রোহের নেপথ্যে রয়েছে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সঙ্গে তাঁর তীব্র মতবিরোধ। সম্প্রতি একটি ‘সই কাণ্ড’কে কেন্দ্র করে এই ক্ষোভ প্রকাশ্যে চলে আসে। যার জেরে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব ঋতব্রত সহ ২ বিধায়ককে দল থেকে বহিষ্কার করে। এর পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করার লড়াই শুরু হয় নেপথ্যে।
দাবি কী? বিক্ষুব্ধ শিবিরের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন, বরং এই ৫০ জন বিধায়ক এবং তাঁদের অনুগামীরাই তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও জোড়াফুল প্রতীকের প্রকৃত দাবিদার।
আইন অনুযায়ী, কোনো দলের প্রতীকের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করতে গেলে বিধানসভায় সেই দলের মোট বিধায়কের দুই-তৃতীয়াংশের (2/3rd) সমর্থন প্রয়োজন হয়। এই মুহূর্তে সমীকরণটি ঠিক কেমন?
| মোট তৃণমূল বিধায়ক (২০২৬ নির্বাচন) | দুই-তৃতীয়াংশের জন্য প্রয়োজনীয় আসন | ঋতব্রতর সাথে থাকা বর্তমান বিধায়ক সংখ্যা |
| ৮০ জন | ৫৩ থেকে ৫৪ জন | ৫০ জন |
হিসেব বলছে, আইনত ‘নতুন তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে ঋতব্রত শিবিরের আরও ৩ থেকে ৪ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই ম্যাজিক ফিগারটি এখনও ছোঁয়া যায়নি বলেই মঙ্গলবার স্পিকারের কাছে চিঠি জমা দেননি উলুবেরিয়া পূর্বের বিধায়ক।
চিঠি জমা দেওয়ার খবর আপাতত অস্বীকার করলেও, ঋতব্রতর শেষ মুহূর্তের মন্তব্য— “কাল কী হবে কে জানে!”— জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে। রাজনৈতিক অলিন্দে জোর খবর, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাকি ৩-৪ জন বিধায়ককে নিজেদের শিবিরে টেনে সমস্যার সমাধান করতে পারে বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী। আর তা যদি হয়, তবে বুধবারই বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা পড়তে পারে সেই ঐতিহাসিক চিঠি।
এখন দেখার, ঘাসফুল শিবিরের এই অন্তর্দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি পারবেন তাঁর ঘর সামলাতে, নাকি ঋতব্রতর ‘নতুন তৃণমূল’ ছিনিয়ে নেবে জোড়াফুলের নিয়ন্ত্রণ? নজর থাকবে বিধানসভার দিকে।



