পথদুর্ঘটনায় দুমড়েমুচড়ে গেল গাড়ি, ঝাঁসিতে প্রাণ হারালেন আতিক আহমেদের কনিষ্ঠ পুত্র আবান
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

UP Crime News: উত্তরপ্রদেশে ফের শিরোনামে গ্যাংস্টার থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা প্রয়াত আতিক আহমেদের পরিবার। ঝাঁসিতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আতিকের সবচেয়ে ছোট ছেলে আবান আহমেদ। বৃহস্পতিবার হাইওয়ে দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁদের নিয়ন্ত্রণহীন গাড়িটি ডিভাইডারে সজোরে ধাক্কা মারলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই আবান সহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রয়াত মাফিয়া আতিক আহমেদের পরিবারের ওপর যেন বিপদের মেঘ কাটছেই না। ২০২৩ সালের এপ্রিলে আতিক ও তাঁর ভাই আশরাফের নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং ছেলে আসাদের এনকাউন্টারের পর, এবার সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন আতিকের কনিষ্ঠ পুত্র আবান আহমেদ।
আরও পড়ুন :: শিক্ষক ও সরকারি কর্মীদের বকেয়া DA নিয়ে বিরাট নির্দেশ! ১৫ দিনের মধ্যে বিল তৈরির তলব, মিলবে মোটা টাকা
পুলিশ সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১০:৩০টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। আবান আহমেদ তাঁর বন্ধুদের নিয়ে একটি সাদা রঙের ক্রিয়েটা (Creta) গাড়িতে করে ঝাঁসির দিকে যাচ্ছিলেন। হাইওয়েতে আচমকাই চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারালে সেটি দ্রুত গতিতে রাস্তার ডিভাইডারে গিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে।
ধাক্কার তীব্রতায় গাড়িটি সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায়। গাড়িতে মোট পাঁচজন আরোহী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে আতিকের ছেলে আবান এবং ‘সোনু’ নামের আরও এক তরুণের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। বাকি তিনজনকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
তদন্তে জানা গেছে, ঝাঁসি জেলে বন্দি থাকা নিজের মেজো ভাই আলি আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেই আবান প্রয়াগরাজ থেকে ঝাঁসির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু জেলে ভাইয়ের সাথে দেখা করার আগেই পথিমধ্যে এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে।
ঝাঁসির সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (SSP) বিবিজিটিএস মূর্তি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ আমরা এসইউভি (SUV) দুর্ঘটনার খবর পাই। চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলেই গাড়িটি ডিভাইডারে ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে এবং তিন জন আহত হয়েছেন।”
এক নজরে আতিক আহমেদের ৫ সন্তানের বর্তমান অবস্থা:
গ্যাংস্টার আতিক আহমেদের পাঁচ ছেলের জীবনই মারাত্মক টানাপোড়েন ও অপরাধের ছায়ায় ঢাকা:
১. উমর আহমেদ (জ্যেষ্ঠ পুত্র): বর্তমানে লখনউ জেলে বন্দি।
২. আলি আহমেদ: ঝাঁসি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে বন্দি রয়েছেন।
৩. আসাদ আহমেদ: ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সাথে এনকাউন্টারে নিহত হন।
৪. আহজাম আহমেদ: জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে বাইরে রয়েছেন।
৫. আবান আহমেদ (কনিষ্ঠ পুত্র): আজকের এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন।
উল্লেখ্য, একাধিক অপহরণ, তোলাবাজি ও হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী আতিক আহমেদ ও তাঁর ভাই আশরাফকে ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল প্রয়াগরাজে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। পুলিশের পাহারায় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের ছদ্মবেশে আসা তিন আততায়ী লাইভ টিভির সামনেই তাঁদের গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেয়। সেই ঘটনার স্মৃতি এখনও তাজা, তার মধ্যেই আতিক পরিবারের কনিষ্ঠতম সদস্যের এই অকালমৃত্যু উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি ও অপরাধ জগতে ফের বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



