নিকাশি নালা সংস্কার করতে গিয়ে উদ্ধার ৯৮ কোটির গুপ্তধন! ১৮ বছরের যুবকের ভাগ্যে কীভাবে এল সোনার পাহাড়?
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

নিকাশি নালার পাইপ মেরামতের কাজ করার সময় মাটির নিচে মিলল বিপুল পরিমাণ সোনা ও দুষ্প্রাপ্য প্রাচীন মুদ্রা। বেলজিয়ামের সাঁ-গিলি-ডেন্ডারমন্ডে উদ্ধার হওয়া এই অমূল্য সম্পদের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য প্রায় ৯ মিলিয়ন ইউরো, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯৮ কোটি টাকা। ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ নির্মাণকর্মী কাজের ফাঁকে প্রথম এই গুপ্তধনের হদিশ পান।
রাজধানী ব্রাসেলস থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত একটি পুরনো এলাকায় সংস্কারের কাজ চলছিল। সেই সময় মাটির নিচে একটি ব্যাগ দেখতে পান ১৮ বছর বয়সী কর্মী কোবে ও তাঁর সহকর্মীরা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে কোবে জানান, প্রথমে তাঁরা ভেবেছিলেন মাটিতে কিছু সাধারণ ইউরো কয়েন পড়ে রয়েছে। কিন্তু মাটি কিছুটা সরাতেই বেরিয়ে আসে চকচকে সোনার বার ও প্রাচীন মুদ্রা।
তদন্তে জানা গিয়েছে, একটি পুরনো ভূগর্ভস্থ ঘরের দেওয়ালের ভেতরে ইট দিয়ে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল ব্যাগটি। ব্যাগের ভেতর থেকে মিলেছে প্রচুর সোনার কয়েন, সোনার টুকরো এবং নম্বর খোদাই করা সোনার বার।
আরও পড়ুন :: জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে অ্যানথ্রপিক সিইওর স্ত্রীর গোপন যোগাযোগ! ফাঁস হওয়া ইমেল ঘিরে তোলপাড় টেক দুনিয়া
যে জমির নিচ থেকে এই গুপ্তধন উদ্ধার হয়েছে, সেখানে উনবিংশ শতকের শেষ ভাগে তৈরি একটি ঐতিহাসিক ভিলা রয়েছে। বাড়িটি তৈরি করেছিলেন বিশিষ্ট মদ প্রস্তুতকারক থিওফিলাস ভ্যান অ্যাসে। ১৮৯৯ সাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত সেখানে তাঁর পারিবারিক মদের ব্যবসা চলেছিল। ওই বাড়ির লোহার ফটকে আজও ভ্যান অ্যাসে পরিবারের নামের প্রতীক হিসেবে ‘VA’ খোদাই করা রয়েছে। বর্তমানে একটি সামাজিক কল্যাণ সংস্থা পুরনো ভবনটি সংস্কার করে কার্যালয় ও আবাসন তৈরির কাজ করছে।
গুপ্তধন উদ্ধারের খবর পেতেই পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন এলাকাটি ঘিরে ফেলে। নিরাপত্তার স্বার্থে উদ্ধার হওয়া সমস্ত সোনা ও মুদ্রা ব্রাসেলসের একটি সুরক্ষিত ভল্টে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
ইস্ট ফ্ল্যান্ডার্সের প্রসিকিউটর অফিসের মুখপাত্র হান্নে ওলিভিয়ের জানিয়েছেন, এই সোনা কোনো অতীত অপরাধ বা চুরির ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষ হলে এর প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপুল সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে জটিল আইনি বিতর্ক তৈরি হতে পারে। সম্ভাব্য দাবিদারদের তালিকায় রয়েছে ভ্যান অ্যাসে পরিবারের উত্তরসূরিরা, বর্তমান জমির মালিক সংস্থা এবং নির্মাণ সংস্থা। বেলজিয়ামের প্রচলিত আইন অনুসারে, উদ্ধার হওয়া কোনো গুপ্তধনের প্রকৃত মালিকানা চূড়ান্ত করতে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। তবে সততার পরিচয় দিয়ে সোনা প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়ায় নির্মাণকর্মীরা সরকারি নিয়মানুযায়ী উপযুক্ত আর্থিক পুরস্কার পেতে পারেন।



