জাতীয়

অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর আগে করা শেষ ফোনালাপের অডিও প্রকাশ্যে আনল এনসিপি

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

Ajit Pawar : অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর আগে করা শেষ ফোনালাপের অডিও প্রকাশ্যে আনল এনসিপি - West Bengal News 24
Image India TV

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে শোকের আবহ আরও ঘনাল ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) এক আবেগঘন সিদ্ধান্তে। প্রবীণ নেতা অজিত পাওয়ারের (Ajit Pawar) মৃত্যুর ঠিক আগে করা শেষ ফোনালাপের অডিও প্রকাশ্যে আনল দল। এনসিপির দাবি, এই অডিওতে থাকা ঐক্য, সাম্য ও সব ধর্ম-বর্ণকে সঙ্গে নিয়ে এগোনোর বার্তাই আজ মানুষের কাছে পৌঁছনো সবচেয়ে জরুরি।

৬৬ বছর বয়সি অজিত পাওয়ার গত ২৮ জানুয়ারি মুম্বই থেকে বারামতির উদ্দেশে একটি লিয়ারজেট ৪৫ বিমানে রওনা হয়েছিলেন। স্থানীয় নির্বাচনের আগে নিজের এলাকায় চারটি নির্বাচনী সভায় ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। সকাল প্রায় ৮টা ৪৫ মিনিট নাগাদ বারামতি বিমানবন্দরে অবতরণের সময় দ্বিতীয়বার অ্যাপ্রোচ নেওয়ার মুহূর্তে আচমকাই দুর্ঘটনায় পড়ে বিমানটি। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার আগে তাঁর শেষ ফোনালাপ হয় দলীয় কর্মী শ্রীজিত পাওয়ারের সঙ্গে। দু’জনেই একই গ্রামের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ। শ্রীজিত জানান, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি অজিত পাওয়ারকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। নেটওয়ার্ক কভারেজে আসতেই ‘দাদা’ নিজেই তাঁকে ফোন করেন।

শ্রীজিতের কথায়, “অজিত দাদা বলেছিলেন – আমরা সব জাতি-ধর্মকে সঙ্গে নিয়ে এগোব। কাউকে বাদ দিয়ে রাজনীতি নয়। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই লড়াই করতে হবে।”

এই কথাগুলিই এখন অডিও আকারে প্রকাশ করেছে Nationalist Congress Party। দলের বক্তব্য, এই রেকর্ডিং সামনে আনার উদ্দেশ্য একটাই – মহারাষ্ট্র জানুক, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত দাদার চিন্তা ছিল মানুষকে এক করার।

বিমানে অজিত পাওয়ারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী, এক সহকারী এবং দুই ককপিট ক্রু পাইলট-ইন-কমান্ড সুমিত কাপুর ও ফার্স্ট অফিসার শম্ভাবী পাঠক। মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তাঁদের সকলেরই মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গোটা রাজ্য স্তম্ভিত।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অজিত পাওয়ার ছিলেন মহারাষ্ট্র রাজনীতির এক প্রভাবশালী মুখ। দক্ষ সংগঠক হিসেবে তাঁর খ্যাতি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে গভীর সংযোগ তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল। তাঁর মৃত্যুতে শুধু এনসিপি নয়, রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিসরেই এক বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে।

এই শোকের মধ্যেই দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে এগিয়ে এসেছেন তাঁর স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার (Sunetra Pawar)। কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণ করানো হয়েছে। দলের আশা, অজিত পাওয়ারের অসমাপ্ত কাজ ও দর্শন তিনি এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

শেষ ফোনালাপে উচ্চারিত ঐক্যের আহ্বানই আজ অজিত পাওয়ারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার – বিভাজনের রাজনীতির বিপরীতে একতার স্পষ্ট ডাক। সেই কণ্ঠস্বরই এখন মহারাষ্ট্রের মানুষের মনে গভীর আবেগ হয়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button

দয়া করে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের অনুমতি দিন

দেখে মনে হচ্ছে আপনি কোনও বিজ্ঞাপন ব্লকার ব্যবহার করছেন। আমরা বিজ্ঞাপনের উপর ভরসা করি ওয়েবসাইটের ফান্ডের জন্য