
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এই বিশেষ দিনে তিনি রাজ্যের মানুষকে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় ভোটদানে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে নাম না করে বিজেপিকে কটাক্ষ করেও বার্তা দেন তিনি।
এদিন নিজের লেখা ও সুর করা একটি গানও সামাজিক মাধ্যমে ভাগ করে নেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি একটি ভিডিও বার্তাও প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, “রাজ্যের সকল প্রান্তের মানুষকে হৃদয়ের অন্তর থেকে জানাই বাংলা নববর্ষের শুভনন্দন। এই নবীন ঊষালগ্নে আপনাদের প্রত্যেকের জীবন হয়ে উঠুক গ্লানিমুক্ত। নতুনের এই আবাহনে প্রতিটি প্রাণ পবিত্রতায় ভরে উঠুক।”
আরও পড়ুন :: ‘সঞ্জয়ের ফাঁসি চাইনি’, আর জি কর মামলায় চাঞ্চল্যকর দাবি অভয়ার মায়ের
নববর্ষের সকালে দেওয়া এই বার্তায় তিনি রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন। একইসঙ্গে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগও করেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে বাংলায় জুলুম ও অত্যাচার চালানো হচ্ছে। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দুই দফায় বিধানসভা নির্বাচন (WB Assembly Election 2026) অনুষ্ঠিত হবে। তৃণমূলের অভিযোগ, এসআইআর সংক্রান্ত সমস্যার কারণে বহু যোগ্য ভোটার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এমনকী নির্বাচন কমিশন বিজেপির প্রভাবেই কাজ করছে বলেও অভিযোগ করেন তৃণমূল নেত্রী।
এদিনও সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন তিনি। তিনি লেখেন, “রাজ্যের তৃণমূল সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার পরও ১০৫ টি সামাজিক প্রকল্প করেছে। আগামী দিনে যাতে সমস্ত মানুষ ভাল থাকে সেটা দেখাই প্রধান টার্গেট। বিজেপি ভ্যানিশ ওয়াশিং মেশিন। সমস্ত এজেন্সি দিয়ে বাংলার ওপর জুলুম-অত্যাচার করছে। ভোটে যাদের নাম বাদ গিয়েছে তাদের মধ্যে অনেকের নাম তুলতে সুপ্রিম কোর্টে যেতে হয়েছে।”
এছাড়াও তিনি কেন্দ্রকে আক্রমণ করে বলেন, “মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে দিল্লির জমিদাররা। মনে রাখবেন, এদের গণতান্ত্রিকভাবে জবাব দিতে হবে।” এসআইআর সংক্রান্ত সমস্যায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন বা যাঁদের নাম বাদ পড়ায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন, তাঁদের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
একইসঙ্গে তিনি বাংলায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তাও দেন। মুখ্যমন্ত্রী এদিন লিখেছেন, “আজকের এই শুভ দিনে আসুন আমরা সমবেতভাবে শপথ নিই; সবরকম সংকীর্ণতার দেওয়াল ভেঙে আমরা বেরিয়ে আসব। কোনও বিভেদকামী-স্বৈরাচারী শক্তি যেন আমাদের চিরকালীন শান্তি, ঐতিহ্যগত সম্প্রীতি আর সৌহার্দ্যের বন্ধন ছিন্ন করতে না পারে।”



