ফুটবল

ম্যারাডোনার মৃত্যু রহস্যে নয়া মোড়: প্রকাশ্যে এল ফুটবল ঈশ্বরের গোপন দুই মানসিক ব্যাধি!

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

Diego Maradona death mystery : ম্যারাডোনার মৃত্যু রহস্যে নয়া মোড়: প্রকাশ্যে এল ফুটবল ঈশ্বরের গোপন দুই মানসিক ব্যাধি! - West Bengal News 24

আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে এখনও কাটেনি রহস্যের মেঘ। সম্প্রতি আদালতে মামলার শুনানিতে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। ‘ফুটবল রাজপুত্র’ কি তবে ভুল চিকিৎসার শিকার হয়েছিলেন?

২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে যান ফুটবল বিশ্বের মহাতারকা দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা। ৬০ বছর বয়সে তাঁর এই আকস্মিক বিদায় মেনে নিতে পারেনি ফুটবল বিশ্ব। মৃত্যুর ঠিক আগেই তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। তবে তাঁর মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল নাকি চিকিৎসকদের গাফিলতি ছিল— এই নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে চলছে আইনি লড়াই। বুয়েনস এইরেসের আদালতে এবার ম্যারাডোনার স্বাস্থ্য নিয়ে এমন কিছু তথ্য সামনে এসেছে, যা এর আগে ভক্তরা জানতেন না।

আদালতে ম্যারাডোনার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা মনোবিদ কার্লোস দিয়াজ সাক্ষ্য দেওয়ার সময় প্রথমবারের মতো কিংবদন্তির দুটি বড় মানসিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ম্যারাডোনা ‘বাইপোলার ডিজঅর্ডার’ এবং ‘নার্সিসিজম’-এ ভুগছিলেন।

আরও পড়ুন :: বিশ্বের সবচেয়ে আবেদনময়ী রেফারি ক্লাউডিয়া

  • বাইপোলার ডিজঅর্ডার: এটি এমন এক মানসিক অবস্থা যেখানে মানুষের আবেগ এবং মেজাজ দ্রুত পরিবর্তন হয়। কখনও অত্যন্ত আনন্দিত, আবার মুহূর্তেই চরম বিষণ্নতায় ডুবে যেতেন তিনি।

  • নার্সিসিজম: এটি মূলত আত্মমুগ্ধতা। সবসময় নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবার এবং নিজের প্রতি অতিমাত্রায় মুগ্ধ থাকার এক বিশেষ মানসিক প্রবণতা।

মনোবিদ কার্লোস দীয়াজের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তিনি ম্যারাডোনার চিকিৎসায় ভুল ওষুধ প্রয়োগ করেছিলেন। এই অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতে দীয়াজ এক আবেগঘন বক্তব্য দেন। তিনি বলেন: “দিয়েগো তাঁর ফুটবল জাদু দিয়ে একটি দেশকে হাঁটু গেঁড়ে বসিয়ে দিতে পারতেন; কিন্তু তাঁকে মাটিতে নামিয়ে আনার জন্য এক গ্লাস অ্যালকোহলই যথেষ্ট ছিল।”

এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, ফুটবল মাঠে অপরাজেয় হলেও মানসিক ও নেশার লড়াইয়ে কতটা অসহায় ছিলেন এই কিংবদন্তি।

মামলার শুনানিতে উঠে এসেছে এক ইতিবাচক তথ্যও। মনোবিদ দিয়াজের দাবি, জীবনের শেষ দিনগুলোতে ম্যারাডোনা নিজের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলেন। তিনি অ্যালকোহল ও মাদকের আসক্তি থেকে মুক্ত হওয়ার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এমনকি মৃত্যুর আগে টানা ২৩ দিন তিনি কোনো প্রকার মাদক গ্রহণ করেননি।

বর্তমানে বুয়েনস এইরেসের আদালতে এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলছে। ম্যারাডোনার মৃত্যুতে অবহেলার অভিযোগে অভিযুক্ত সাত চিকিৎসক ও নার্সের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। মনোবিদ দিয়াজের এই নতুন তথ্য মামলার মোড় কোন দিকে ঘোরায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। ফুটবল ঈশ্বরের প্রয়াণের চার বছর পার হলেও ভক্তদের মনে এখনও প্রশ্ন— সঠিক চিকিৎসায় কি বাঁচানো যেত ম্যারাডোনাকে?

আরও পড়ুন ::

Back to top button