
বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবার শিক্ষা ক্ষেত্রেও বিরাট রদবদল। রাজ্যের সমস্ত স্কুলে এবার থেকে প্রার্থনা সঙ্গীত হিসেবে গাইতে হবে ‘বন্দেমাতরম’। বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে এই ঐতিহাসিক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী রচনার ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে ঘিরে ইতিমধ্য়েই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী সোমবার থেকেই রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। বর্তমানে রাজ্যে গরমের ছুটি চলছে। ১ জুন স্কুল খোলার পর থেকেই পড়ুয়ারা সমস্বরে ‘বন্দেমাতরম’ গেয়ে স্কুল শুরু করবে। উল্লেখ্য, এতদিন রাজ্যের অধিকাংশ স্কুলে মূলত ‘জনগণমন’ এবং বিগত সরকারের নির্দেশে রাজ্য সঙ্গীত ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ গাওয়ানো হতো। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো ‘বন্দেমাতরম’।
আরও পড়ুন :: আইনজীবীর পোশাকে হাইকোর্টে মমতা! ‘মুক্ত বিহঙ্গ’ হয়ে ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় সওয়াল তৃণমূল সুপ্রিমোর
সূত্রের খবর, গত মঙ্গলবারই বিকাশ ভবন থেকে সমস্ত জেলা স্কুল পরিদর্শকদের (DI) কাছে এই সংক্রান্ত প্রাথমিক বার্তা পাঠানো হয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ মারফত নির্দেশিকাটি স্কুলগুলিতে পৌঁছাতে শুরু করেছে। যদিও সরকারিভাবে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যেই প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মূল পয়েন্টগুলি একনজরে:
ঘোষণা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
প্রার্থনা সঙ্গীত: বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বন্দেমাতরম’।
সময়সীমা: সোমবার থেকেই কার্যকর করার নির্দেশ।
প্রেক্ষাপট: ‘বন্দেমাতরম’ রচনার ১৫০ বছর উদযাপন।
প্রার্থনা সঙ্গীতের পাশাপাশি স্কুল পড়ুয়াদের জন্য আরও একটি বড় আপডেট দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তীব্র দাবদাহের কথা মাথায় রেখে গরমের ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
আগে স্কুল খোলার কথা ছিল ১৮ মে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩১ মে পর্যন্ত স্কুল ছুটি থাকবে।
১ জুন থেকে পুনরায় পঠনপাঠন শুরু হবে প্রাথমিক থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক স্তরে।
তবে দার্জিলিং ও কালিম্পং সহ পার্বত্য অঞ্চলের স্কুলগুলিতে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বন্দেমাতরম’ কেবল একটি গান নয়, এটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল মন্ত্র। এই রচনার সার্ধশতবর্ষ উদযাপনে পড়ুয়াদের মনে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তুলতেই শুভেন্দু অধিকারীর সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে কয়েক দশকের প্রচলিত প্রার্থনা সঙ্গীতের ধারায় আমূল বদল আসতে চলেছে বাংলায়।



