
বাংলার রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। জননেত্রীর ইমেজ ঝেড়ে ফেলে ফের পুরনো পেশায় ফিরলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে তাঁকে দেখা গেল আইনজীবীর কালো কোট ও ব্যান্ডে। ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর রাজনীতিতে নিজের নতুন ভূমিকার কথা আগেই জানিয়েছিলেন তিনি। এবার সেই কথা মেনেই ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় আইনজীবীর ভূমিকায় সওয়াল করতে প্রধান বিচারপতির এজলাসে হাজির হলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে। ২০০-র বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। হারের পর সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে ‘মুক্ত বিহঙ্গ’ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন:
“আমার এখন কোনও চেয়ার নেই, আমি সাধারণ মানুষ। এবার আমি রাস্তায় নামব এবং আইনজীবী হিসেবে কাজ করব।”
সেই ঘোষণার রেশ ধরেই আজ হাইকোর্টে তাঁর এই উপস্থিতি। ক্ষমতার অলিন্দ ছেড়ে আইনের লড়াইয়ে তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে রাজনৈতিক মহল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে।
আরও পড়ুন :: শাসক থেকে বিরোধী: বিধানসভায় নতুন ইনিংস তৃণমূলের, বিধায়কদের সুবিধা দেখতে ময়দানে শোভনদেব-ফিরহাদ
নির্বাচন মিটতেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে তৃণমূল কার্যালয় ভাঙচুর এবং কর্মীদের মারধরের অভিযোগ সামনে এসেছে। এই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের হয়। সেই মামলার শুনানিতেই আজ প্রধান বিচারপতির এজলাসে দাঁড়িয়ে নিজের দলের কর্মীদের হয়ে আইনি লড়াই লড়বেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আইনজীবী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়াল করার ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করে সকলকে চমকে দিয়েছিলেন তিনি। তবে এবারের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। এবার তিনি রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে নয়, বরং একজন পেশাদার আইনজীবী হিসেবে নিজের সওয়াল পেশ করবেন।
এদিন সকাল থেকেই কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে ছিল উপচে পড়া ভিড়। আইনজীবীর পোশাকে প্রিয় নেত্রীকে দেখতে ভিড় জমান অনুগামী ও সাধারণ মানুষ। আদালত সূত্রে খবর, প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আইনি লড়াই বাংলার রাজনীতিতে নতুন কোনও মোড় আনে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।



