১৩ কোটির ঋণ, অথৈ জলে মহামেডান! ক্লাব বাঁচাতে এবার নওশাদ-হুমায়ুনের দ্বারস্থ সাদা-কালো ব্রিগেড
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

স্পনসর ও বিনিয়োগকারীর অভাবে দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক সংকটে ভুগছে মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। আই লিগে খেলার সময় থেকেই আর্থিক অনিশ্চয়তা ছিল সাদা-কালো ব্রিগেডের সঙ্গী। আইএসএলে ওঠার পরেও পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হয়নি। অতীতে রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলেন ক্লাব কর্তারা। কিন্তু সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলেই দাবি। এবার ক্লাবকে আর্থিক সঙ্কট থেকে বের করে আনতে দুই রাজনৈতিক নেতা নওশাদ সিদ্দিকী ও হুমায়ুন কবীরের দ্বারস্থ হল মহামেডান।
গত দুই মরশুম ধরে আইএসএলে খেলছে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাব। তবে বর্তমানে স্পনসর না থাকায় প্রায় ১৩ কোটি টাকার ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে চলতে হচ্ছে তাদের। পাশাপাশি আগামী মরশুমের দল গঠন ও ক্লাব পরিচালনার জন্যও প্রয়োজন বড় অঙ্কের বিনিয়োগ। অথচ এখনও পর্যন্ত কোনও স্থায়ী ইনভেস্টর জোগাড় করতে পারেননি ক্লাব কর্তারা।
আরও পড়ুন :: বকরি ইদের ছুটি কমাল রাজ্য সরকার! ২ দিনের বদলে এবার ১ দিন ছুটি, জারি কড়া নির্দেশিকা
এর আগে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের প্রধান নওশাদ সিদ্দিকী অভিযোগ করেছিলেন, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের পাশে দাঁড়িয়েছেন, মহামেডান সেই সমর্থন পায়নি। সেই সময় তিনি দাবি করেছিলেন, ক্লাব চাইলে স্পনসর আনার বিষয়ে তিনি উদ্যোগ নিতে পারেন। অন্যদিকে, আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরও ক্লাবের আর্থিক সমস্যা সমাধানে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্লাব কর্তারা চাইছেন, যাঁরা অতীতে পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন, তাঁরা এবার সরাসরি উদ্যোগ নিন। সেই কারণেই নওশাদ সিদ্দিকী ও হুমায়ুন কবীরকে চিঠি পাঠানো হয়েছে মহামেডানের তরফে। পাশাপাশি বাঙ্কারহিল কর্তা দীপক সিংকেও যোগাযোগ করা হয়েছে। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “আমরা সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে শুনেছি যে ওনারা মহামেডান ক্লাবের এই ক্রাইসিসের সময় পাশে দাঁড়াতে আগ্রহী। তাই ওনাদের কী দৃষ্টিভঙ্গি সেটা জানতে আমরা আগ্রহ দেখিয়েছি।”
নওশাদ সিদ্দিকীকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, “আপনি যেভাবে আমাদের ক্লাবকে সাহায্য করতে আগ্রহ দেখিয়েছেন, তাতে আমরা আপ্লুত। আমরা এটাও জানতে পেরেছি যে আপনার কোনও প্রতিনিধিকে ক্লাবের উন্নয়নের জন্য নিয়োগ করতে চান। আমরা এ ব্যাপারে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী জানতে চাই। ইনভেস্টর নিয়ে কী ভাবছেন, আপনার বৃহত্তর ভাবনা কী- সবটাই জানতে চাই।”
অন্যদিকে, হুমায়ুন কবীরকে পাঠানো চিঠিতে তাঁকে সরাসরি ক্লাব প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে ক্লাবে এসে কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের আহ্বানও জানানো হয়েছে তাঁকে।
তবে শুধুমাত্র এখানেই থেমে থাকতে নারাজ মহামেডান কর্তারা। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ভবিষ্যতে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছেও সাহায্যের আবেদন জানানো হতে পারে বলে সূত্রের খবর।



